
ডার্বির ‘সুলতান’ সুন্দরল্যান্ড: শেষ মুহূর্তে নিউক্যাসলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিল জয়ের মুকুট
Sunderland A.F.C. শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে Newcastle United F.C.-কে ২-১ গোলে হারাল। টাইনে-ওয়্যার ডার্বিতে এই জয় সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে।
ফুটবলের দুনিয়ায় কিছু ম্যাচ শুধু খেলা নয়, আবেগ, সম্মান আর ইতিহাসের লড়াই হয়ে ওঠে। তেমনই এক লড়াই ‘টাইন-ওয়্যার ডার্বি’, যেখানে Newcastle United (নিউক্যাসল ইউনাইটেড) এবং Sunderland (সুন্দরল্যান্ড) মুখোমুখি হয়। এবার সেন্ট জেমস পার্কে যা ঘটেছে, তা শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত দর্শকদের উত্তেজনায় বেঁধে রেখেছিল। সুন্দরল্যান্ড নিউক্যাসলকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিল।
ম্যাচের শুরুটা পুরোপুরি নিউক্যাসলের দখলে ছিল। ঘরের মাঠের সমর্থকদের চিৎকারে উজ্জীবিত হয়ে দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ১০ মিনিটেই Anthony Gordon (অ্যান্থনি গর্ডন) দুর্দান্ত গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ একতরফা হয়ে যাবে। প্রথমার্ধে নিউক্যাসলের দাপট এতটাই ছিল যে সুন্দরল্যান্ড কিছুটা চাপে পড়ে যায়।
কিন্তু আসল গল্পটা লেখা হয় দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির পর সুন্দরল্যান্ড বদলে যাওয়া মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। দল ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে এবং আক্রমণ বাড়ায়। ৫৭ মিনিটে Chemsdine Talbi (চেমসডাইন তালবি) অসাধারণ গোল করে স্কোর ১-১ সমতায় ফেরান। এই গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়।
সময় যত গড়াতে থাকে, ততই চাপ বাড়তে থাকে। ৮৫ মিনিট পেরিয়ে গেলে মনে হচ্ছিল ম্যাচ ড্র হবে। কিন্তু ফুটবলে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। ঠিক ৯০ মিনিটে Brian Brobbey (ব্রায়ান ব্রোব্বি) জাদুকরী গোল করে সুন্দরল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই গোল শুধু স্কোরলাইন বদলায়নি, নিউক্যাসলের সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।এই জয়ের গুরুত্ব শুধু তিন পয়েন্টে সীমাবদ্ধ নয়। সুন্দরল্যান্ড এই মৌসুমে নিউক্যাসলকে ঘরের মাঠে এবং বাইরে—দুই জায়গাতেই হারিয়ে ‘সিজন সুইপ’ সম্পন্ন করেছে, যা ডার্বি ম্যাচে বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হয়। এর ফলে তারা মানসিক দিক থেকেও বড় সুবিধা পেল।
ম্যাচ শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দরল্যান্ড সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। #TyneWearDerby ট্রেন্ড করতে শুরু করে এবং সমর্থকরা নিজেদের দলকে ‘ডার্বির আসল রাজা’ বলতে থাকেন। অন্যদিকে নিউক্যাসল শিবিরে হতাশা স্পষ্ট, বিশেষ করে শেষ মুহূর্তের ডিফেন্সের ভুলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। সব মিলিয়ে, এই ম্যাচ ফুটবলের রোমাঞ্চ, লড়াই এবং অনিশ্চয়তার এক নিখুঁত উদাহরণ—যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াই আসল চাবিকাঠি।





