
সান্ডারল্যান্ডের দুর্গে কে থামাতে পারল লিডসকে? ক্যালভার্ট-লিউইন আবার বদলে দিলেন গল্প
স্টেডিয়াম অফ লাইটে সান্ডারল্যান্ডকে হারাতে পারল না লিডস। আদিংরার গোলে লিড, ক্যালভার্ট-লিউইনের প্রত্যাবর্তনে সমতা। হিউমের গোললাইন সেভ ও অ্যারনসনের সৃজনশীলতায় ১-১ ড্রয়ে শেষ ম্যাচ।
স্টেডিয়াম অফ লাইটে খেলা এই ম্যাচের শুরুটা সান্ডারল্যান্ড করে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার চাপ নয়, বরং আত্মবিশ্বাসই স্পষ্ট ছিল তাদের খেলায়। শুরুর মিনিটগুলোতেই সান্ডারল্যান্ড বলের দখল ধরে রেখে লিডসকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে। ২৮তম মিনিটে সেই চাপের ফল মেলে, যখন সিমোন আদিংরা বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে দলকে এগিয়ে দেন। এই গোল ছিল নিখুঁত টেকনিক ও আত্মবিশ্বাসের উদাহরণ। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্রায়ান ব্রোবের হেডার ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, ফলে সান্ডারল্যান্ডের লিড দ্বিগুণ হওয়া থেকে বেঁচে যায় লিডস।
হিউমের দেয়াল এবং সান্ডারল্যান্ডের দৃঢ়তা
লিড ধরে রাখতে সান্ডারল্যান্ডের ডিফেন্সের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমার্ধে ট্রাই হিউম এমন কিছু করে দেখান, যা প্রায়ই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। ব্রেনডেন অ্যারনসনের শট প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু হিউম গোললাইন থেকে ছুটে এসে বল ক্লিয়ার করেন। এই মুহূর্তটি সান্ডারল্যান্ডের জন্য এক গোলের সমান ছিল। পুরো হাফ জুড়ে সান্ডারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা স্পষ্ট ছিল এবং লিডস খুব বেশি খোলা জায়গা পায়নি।
ক্যালভার্ট-লিউইনের প্রত্যাবর্তন এবং ঐতিহাসিক ছন্দ
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই লিডসের মানসিকতা বদলে যায়। ৪৭তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে ওঠে, ব্রেনডেন অ্যারনসন নিখুঁত লো ক্রস বাড়ান এবং ডোমিনিক ক্যালভার্ট-লিউইন কোনো ভুল না করে বল জালে পাঠান। এটি ছিল তার টানা ষষ্ঠ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে গোল। এই গোলের মাধ্যমে ক্যালভার্ট-লিউইন ২০১৯ সালের পর কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের দীর্ঘতম স্কোরিং স্ট্রিকের সমতায় পৌঁছে যান। বিশেষ বিষয় হলো, এই গোলের আগে লিডসের সব ১১ জন খেলোয়াড় কোনো বাধা ছাড়াই বল ছুঁয়েছিলেন, যা চলতি মৌসুমে লিগে অত্যন্ত বিরল দৃশ্য।
অ্যারনসনের সৃজনশীলতা এবং অপূর্ণ জয়
ম্যাচের বাকি সময়ে লিডস আরও বেশি সুযোগ তৈরি করে। এই সময়ে ব্রেনডেন অ্যারনসন ছিলেন লিডসের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়। তিনি বারবার সান্ডারল্যান্ডের বক্সে চাপ সৃষ্টি করেন, পাঁচটি বড় সুযোগ তৈরি করেন এবং নিজেও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছান। পরিসংখ্যান বলছে, লিডস সান্ডারল্যান্ডের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু শেষ স্পর্শের অভাবে তারা জয় পায়নি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ১-১ ড্রয়ে শেষ হয়। সান্ডারল্যান্ডের ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকার রেকর্ড অটুট থাকে, আর লিডসের অপরাজিত ধারাও বজায় থাকে। এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করে দেয়, সান্ডারল্যান্ডের দুর্গ এখনও প্রতিটি দলের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।





