SAFC

মেসির কোলে থাকা শিশু হয়ে উঠল বিশ্বকাপের হিরো, ইয়ামালের গোলে তৈরি হল বিশেষ ইতিহাস

লিওনেল মেসির কোলে থাকা শিশু লামিন ইয়ামাল এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের নতুন নায়ক। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম বিশ্বকাপ গোল করে তিনি বিশেষ ইতিহাস গড়েছেন এবং মেসির সঙ্গে অদ্ভুত মিল তৈরি করেছেন।

ফুটবলের দুনিয়ায় লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামালের একটি ছবি আগেই খুব বিশেষ বলে মনে করা হয়। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি অনুষ্ঠানের সময় মেসি ছয় মাসের ইয়ামালকে নিজের কোলে তুলেছিলেন। তখন মেসি নিজেই বিশ্বের উঠতি তারকা ছিলেন এবং কেউ ভাবেনি যে তাঁর কোলে খেলা শিশুটি পরে স্পেনের বড় ফুটবলার হবে। ২০২৪ সালে এই ছবি সামনে এলে মানুষ এটিকে দুই প্রজন্মের অনন্য মিলন বলেছিল।

প্রথম গোলের বড় মুহূর্ত

এখন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইয়ামাল সেই ছবিটিকে আরও বিশেষ করে দিয়েছেন। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে স্পেনের হয়ে খেলতে নেমে তিনি টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোল করেছেন। ইয়ামাল ম্যাচের শুরুর মিনিটেই গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। এরপর স্পেন ম্যাচে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারায়। এই জয় স্পেনের জন্য খুব জরুরি ছিল, কারণ প্রথম ম্যাচে দল গোল করতে পারেনি।

মেসির সঙ্গে জড়ানো অদ্ভুত মিল

ইয়ামালের এই গোলের সঙ্গে মেসির জড়ানো একটি মজার মিলও সামনে এসেছে। মেসি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছিলেন ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অন্যদিকে ইয়ামাল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেছেন। অর্থাৎ ইয়ামাল মেসির চেয়ে ১৪ দিন কম বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন। এই পরিসংখ্যান আরও বিশেষ কারণ দুজনের গল্প একটি পুরনো ছবির সঙ্গে জড়িত, যা এখন ফুটবল ফ্যানরা বারবার মনে করছেন।

ডান পায়ে হল কমাল

আরও একটি বিশেষ বিষয় দুজন খেলোয়াড়ের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের সঙ্গে জড়িত। মেসি সাধারণত বাম পায়ের দুর্দান্ত খেলার জন্য পরিচিত, কিন্তু তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ গোল এসেছিল ডান পা থেকে। ইয়ামালও বাম পায়ে খেলেন, কিন্তু সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ গোল ডান পা থেকে হয়েছে। এই মিল মেসি এবং ইয়ামালের তুলনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও ইয়ামাল এখনও নিজের কেরিয়ারের শুরুতে আছেন এবং তাঁর সামনে দীর্ঘ পথ বাকি।

স্পেন পেল নতুন ভরসা

ইয়ামালের গোল শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য ছিল না, বরং স্পেনের জন্যও বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর স্পেনের উপর চাপ ছিল। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়ামাল শুরুতেই গোল করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ান। মিকেল ওয়ারজাবালও দুটি গোল করেন এবং স্পেন দুর্দান্ত জয় পায়। ইয়ামালের ফেরায় স্পেনের গতি এবং আক্রমণ দুটোই শক্তিশালী দেখিয়েছে।

এখন সামনে সবার নজর

মেসি নিজের কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ পর্বে আছেন, অন্যদিকে ইয়ামাল নিজের প্রথম বিশ্বকাপে উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন। একদিকে মহান খেলোয়াড়ের দীর্ঘ যাত্রা, অন্যদিকে নতুন তারকার শুরু। মেসির কোলে খেলা ইয়ামালের বিশ্বকাপ গোল ফুটবল ফ্যানদের জন্য আবেগের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। এখন সবার নজর থাকবে যে ইয়ামাল স্পেনের জন্য সামনে কত বড় ম্যাচে নিজের প্রভাব রেখে যান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button