
ভারত যখন মহিলা এশিয়া কাপে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিল বাংলাদেশ থেকে বদলা, এমনই ছিল সেই ঘটনা
ভারতীয় অনূর্ধ্ব–১৯ দল সকালে বাংলাদেশে হেরেছিল ক্রিকেটে, কিন্তু সেই দিনই বিকেলে মহিলা জুনিয়র হকি দল দুর্দান্তভাবে বদলা নেয়। দীপিকা ও মুমতাজের ঝড়ে ভারত ৮–১ ব্যবধানে বাংলাদেশকে হারায়—দেখিয়ে দেয়, ভারত কখনও হার মানে না।
অনেক বছর আগের কথা, সেই একই দিন… ভারতীয় খেলাপ্রেমীদের মন যেন দুই খেলায় দোল খাচ্ছিল। সকালেই খবর এল—ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলকে এশিয়া কাপের ফাইনালে ৫৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশার ছায়া, সবাই মনমরা। কিন্তু সেই দিনই ভারতের কপালে ছিল আরেকটি সুযোগ। বিকেলে ছিল মহিলাদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির ম্যাচ—সামনে আবারও বাংলাদেশ, আবারও চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় মেয়েদের চোখে তখন এক অদম্য জেদ—“ক্রিকেটের হিসাব হকিতেই মিটিয়ে দেব।”
বাংলাদেশের আশা মুহূর্তে ভেঙে দিল ভারত
ম্যাচ শুরু হতেই প্রথম কোয়ার্টারে ভারত এমন ঝড় তুলল যে বাংলাদেশ দলের আশা মুহূর্তেই ভেঙে গেল। দীপিকা প্রথম গোল করতেই ভারতীয় ডাগআউটে বদলার আগুন জ্বলে উঠল। বাংলাদেশ দলের অর্পিতা পাল একটি গোল দিলেও সেটা ছিল মাত্র এক ঝলক, যা পরের মিনিটেই ভারতের আক্রমণে মিলিয়ে গেল। প্রথম কোয়ার্টারের পর স্কোর ৩–১—ম্যাচের গল্প তখনই লেখা হয়ে গিয়েছিল।
কমাল দেখাল ভারতীয় মেয়েরা
তারপর যেন ভারতীয় মেয়েরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—আজ দয়া দেখানো হবে না। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল, তৃতীয় কোয়ার্টারে তিনটি গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে এমন ঝড় উঠলো যে বাংলাদেশ দল বুঝতেই পারল না বল কোথায় যাচ্ছে আর গোল কে করছে। মুমতাজ একাই চার গোল করলেন—যেন বাংলাদেশি গোলপোস্ট তার পুরনো শত্রু। কানিকা ও দীপিকা তিনটি করে গোল করে স্কোরবোর্ড আলোকিত করে দিলেন।
শেষে মাঠে দেখা গেল শুধু ভারতের রং
ম্যাচ শেষ হতে হতে মাঠে একটাই রং দেখা গেল—ভারতের। ক্রিকেটে পাওয়া পরাজয়ের কষ্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হকি দল এমনভাবে মুছে দিল যে পুরো দেশ মনে করলো যেন হৃদয়ে নতুন উদ্দীপনা জেগে উঠেছে। সবাই বলতে লাগল—“বাংলাদেশ ক্রিকেটে মেরেছিল, ভারত হকিতে জবাব দিল।” এই ঘটনাটি আজও মনে রাখা হয় কারণ ভারত সেদিন প্রমাণ করেছিল—খেলা শুধু জয়-পরাজয় নয়, কখনও এটি সম্মান, দৃঢ়তা আর তাত্ক্ষণিক জবাব দেওয়ার শক্তির লড়াই। ভারতীয় জুনিয়র হকি দল দেখিয়ে দিয়েছিল যে ভারতীয়রা হার মানে না—পরের মাঠেই আরও জোরে ফিরে আসে।





