Hockey

২০২৫ সালে ভারতীয় হকির মিশ্র বাস্তবতা, এশিয়া কাপের আনন্দ, মহিলা দলের অবনতি এবং লিগ সংকটে

২০২৫ সালে ভারতীয় হকিতে মিলেছে সাফল্য ও হতাশা দুটোই। পুরুষ দল এশিয়া কাপ জিতলেও মহিলা দলের অবনমন ও হকি ইন্ডিয়া লিগ সংকট উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জুনিয়রদের সাফল্য ভবিষ্যতের আশা দেখাচ্ছে।

প্যারিস অলিম্পিকের পর আশা করা হয়েছিল ২০২৫ সালে ভারতীয় হকি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। পুরুষ দলের ওপর চাপ ছিল, তবে রাজগীরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে দল নিজেদের প্রমাণ করেছে। ইউরোপ সফরে একের পর এক অল্প ব্যবধানে হারার পর এশিয়া কাপ ভারতের জন্য করো বা মরো পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল। ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে ভারত চীন ও জাপানের মতো প্রতিপক্ষকে পেরিয়ে ছন্দ খুঁজে পায় এবং ফাইনালে কোরিয়াকে হারিয়ে আট বছর পর এশিয়া কাপ জেতে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারত সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।

সিনিয়র দলের প্রস্তুতি ও সামনের পথ
এশিয়া কাপের পর সুলতান আজলান শাহ কাপে তরুণ দল ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে শক্তি দেখালেও শিরোপা জিততে পারেনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দল অপরাজিত থাকে। কোচ ক্রেগ ফালটনের স্পষ্ট মত, বিশ্বকাপ জিততে হলে ভারতকে র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরের ছয়টি দলকে হারানোর মতো সক্ষম হতে হবে। ২০২৬-এর আগে প্রো লিগে আর্জেন্টিনা, বেলজিয়াম, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচগুলোই হবে ভারতের আসল প্রস্তুতি, যেখানে উন্নতির কঠোর প্রয়োজন রয়েছে।

মহিলা দলের অবনমন ও উদ্বেগ
মহিলা হকি দলের জন্য ২০২৫ সাল ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। টোকিও অলিম্পিকের পর যে স্থিতিশীলতার আশা করা হয়েছিল, তা দেখা যায়নি। প্রো লিগে ভারত শেষ স্থানে থাকে এবং নেশনস কাপে অবনমন সহ্য করতে হয়। এশিয়া কাপ ফাইনালে চীনের কাছে হারের পর বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতাও হাতছাড়া হয়। এর পর কোচ হরেন্দ্র সিংয়ের পদত্যাগ এবং জুনিয়র মহিলা দলের দুর্বল পারফরম্যান্স পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। এখন নতুন কোচের খোঁজ এবং মার্চে অনুষ্ঠিত কোয়ালিফায়ার বড় চ্যালেঞ্জ।

হকি ইন্ডিয়া লিগ ও জুনিয়র দলের আশা
হকি ইন্ডিয়া লিগের প্রত্যাবর্তনে বড় আশা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু একাধিক দলের সরে যাওয়ায় লিগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পারিশ্রমিক সংক্রান্ত সমস্যা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সংকট উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যদিও হকি ইন্ডিয়া ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। অন্যদিকে জুনিয়র পুরুষ দল পিআর শ্রীজেশের কোচিংয়ে বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জিতে আশার আলো দেখিয়েছে। নয় বছর পর পাওয়া এই পদক প্রমাণ করে, এই প্রজন্ম ভবিষ্যতে সিনিয়র দলের বড় শক্তি হতে পারে। ২০২৬ সালের চ্যালেঞ্জের আগে এই তরুণরাই ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button