
হকি দুনিয়ায় নতুন গোল মেশিনের জন্ম, বাংলাদেশের রকির তাণ্ডব দেখে বিশ্ব হতবাক!
জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রাকিবুল হাসান রকি নতুন গোল মেশিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। আক্রমণ, ড্রিবলিং ও টিমওয়ার্কে ভর করে বাংলাদেশ প্রথমবার ১৭তম স্থান ও চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছে।
বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল প্রথমবারের মতো এফআইএইচ জুনিয়র বিশ্বকাপ খেলেই অর্জন করেছে ১৭তম স্থান, যা নিচের আট দলের মধ্যে সেরা। দলটির পেনাল্টি–কর্নার বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম ১৮ গোল করে আলোচনায় থাকলেও, পুরো অভিযানের প্রকৃত কারিগর ছিলেন মিডফিল্ডার রাকিবুল হাসান রকি। দুর্দান্ত ড্রিবলিং, আক্রমণাত্মক খেলায় তিনি শুধু পাঁচ গোলই করেননি, বরং অসংখ্য আক্রমণের সূচনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও কোরিয়ার মতো কঠিন গ্রুপে পড়েও দলের একাগ্রতা ও আত্মবিশ্বাসই তাদের ‘চ্যালেঞ্জার ট্রফি’ এনে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
কোচ আইকম্যানের জাদু ও দলের নতুন মানসিকতা
রকির মতে, কোচ সিগফ্রিড আইকম্যান দলে যোগ দেওয়ার পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ডিফেন্সে। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট-ডিফেন্স মজবুত থাকলে সুযোগ তৈরি হবেই। আগের কোচ এমনকি যোগ্যতা পর্বের প্রশিক্ষকরাও ভিত্তি মজবুত করতে সাহায্য করেছেন। রকি জানান, কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ না হলেও ‘চ্যালেঞ্জার ট্রফি’ জয় বাংলাদেশের হকি ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। সুইজারল্যান্ডকে ৫–৩ গোলে হারানোর পর দলের আত্মবিশ্বাস চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়।
দলের জন্য খেলা-এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য
রকি বলেন, মাত্র পাঁচ গোল করার কোনো আফসোস নেই তাঁর, কারণ দলের জয়ই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর কোচ তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তিনি দল যা চেয়েছিল ঠিক তা–ই করেছেন। তিনি জানান, আক্রমণ ও রক্ষণ-দুটোতেই তাঁর দায়িত্ব ছিল, কারণ আমিরুল ইসলামের দুর্দান্ত ফর্মকে কাজে লাগাতে তিনি যত বেশি সম্ভব পেনাল্টি–কর্নার আদায়ে মনোযোগ দিয়েছিলেন। রকি বলেন, দলে কেউ নিজের নামের জন্য নয়, দেশের জন্য খেলছে-এটাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
লক্ষ্য অলিম্পিক, আর স্বপ্ন ‘গোল মেশিন’ হওয়ার
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে রকি বলেন, একদিন তিনি ‘গোল মেশিন’ নামে পরিচিত হতে চান, যদিও জিমি ভাই এখনো বাংলাদেশের সেরা ফরোয়ার্ড। রকি মনে করেন, বড় টুর্নামেন্টে আরও কার্যকর হতে হলে ফিটনেস, মানসিকতা ও ফিনিশিং উন্নত করা জরুরি। তিনি দেশের ঘরোয়া হকি বন্ধ থাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ম্যাচ না থাকলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও উন্নতি থেমে যায়। রকির আশা, আবারও লিগ, স্কুল হকি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতা শুরু হবে, যাতে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং দেশের হকি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।





