
‘জাদু-টোনা’ নাকি হ্যারি কেনের কৃতিত্ব? ৬০ বছর পর ইতিহাস গড়ল ইংল্যান্ড, একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন অধিনায়ক
হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে ইংল্যান্ড ৬০ বছর পর বিশ্বকাপ নকআউটে পিছিয়ে থেকেও জয়ের ইতিহাস গড়েছে। ম্যাচের আগে ঘানার এক তান্ত্রিকের ‘জাদু-টোনা’ দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এ ইংল্যান্ড ২-১ গোলে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য একেবারেই ভালো ছিল না এবং শুরুর দিকেই গোল খেয়ে দল পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু অধিনায়ক হ্যারি কেন দ্বিতীয়ার্ধে দুটি দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচের পুরো মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁর অধিনায়কোচিত ইনিংস শুধু ইংল্যান্ডকে জয়ই এনে দেয়নি, দল ৬০ বছর আগের বিশ্বকাপের ইতিহাসও পুনরাবৃত্তি করেছে। এই জয়ের পর মাঠের খেলার চেয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘানার এক তান্ত্রিকের দাবি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ঘানার তান্ত্রিকের দাবিতে ছড়িয়েছিল চাঞ্চল্য
পুরো ঘটনার শুরু গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ঘানার ম্যাচকে ঘিরে। সেই ম্যাচের আগে ঘানার বিখ্যাত তান্ত্রিক নানা কোয়াকু বনসম দাবি করেছিলেন, তিনি হ্যারি কেনের ওপর এমন জাদু-টোনা করেছেন যাতে তিনি গোল করতে পারবেন না। কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচে হ্যারি কেন কোনো গোল করতে পারেননি এবং পুরো ম্যাচে তাঁর প্রভাবও বেশ কম ছিল। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় তান্ত্রিকের এই দাবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মজার ছলে একে ‘জাদুর প্রভাব’ বলেছেন, আবার কেউ এটিকে নিছক কাকতালীয় বলে মনে করেছেন। বিষয়টি কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেটে ট্রেন্ড করেছিল।
নকআউট ম্যাচের আগে বদলে গেল পুরো দাবি
ইংল্যান্ডের নকআউট ম্যাচের আগে একই তান্ত্রিক আরও একটি বক্তব্য দিয়ে সবাইকে চমকে দেন। তিনি বলেন, হ্যারি কেনের ওপর করা কথিত জাদু তিনি তুলে নিয়েছেন এবং এবার ইংল্যান্ডের অধিনায়ক দুর্দান্ত খেলবেন। এই বক্তব্য দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এই দাবির কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য নেই এবং এটিকে কুসংস্কার বা ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই ধরা হয়। কিন্তু ম্যাচে যা ঘটল, তা এই আলোচনায় আরও ইন্ধন জোগায়। কঙ্গোর বিরুদ্ধে হ্যারি কেন ছিলেন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এবং কঠিন সময়ে দলকে সামলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন।
দুটি গোল করে ইতিহাস গড়লেন কেন
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই গোল খেয়ে ইংল্যান্ড চাপে পড়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেন প্রথমে সমতার গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান। এরপর দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই জয়ে পরিণত হয়। কেনের অধিনায়কত্ব এবং গোল করার ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করে যে বড় ম্যাচে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা তাঁর প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এবং তান্ত্রিকের দাবিকে ঘিরেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
৬০ বছর পর পুনরাবৃত্তি হল ঐতিহাসিক কীর্তি
এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ইতিহাসের ৬০ বছর আগের একটি রেকর্ডও পুনরাবৃত্তি করেছে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড নকআউট ম্যাচে প্রথমে গোল খেয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছিল। এরপর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ড জয় তুলে নিল। এখন দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে এবং পরের রাউন্ডে তাদের লক্ষ্য থাকবে শিরোপার দিকে। অন্যদিকে হ্যারি কেন আবারও প্রমাণ করে দিয়েছেন, সবচেয়ে বড় মঞ্চের চাপের মধ্যেও তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।





