
বিশ্বকাপ টিকিটে FIFA-র ইউ-টার্ন, সস্তা হল এন্ট্রি পাস কিন্তু আনন্দ কি অসম্পূর্ণ?
২০২৬ FIFA বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে প্রতিবাদের মুখে ইউ-টার্ন নিল FIFA। কিছু ম্যাচে ৬০ ডলারের সস্তা টিকিট চালু হলেও সংখ্যা সীমিত। সমর্থকদের স্বস্তি মিললেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আনন্দ কি সত্যিই পূর্ণ হলো?
ফুটবল ভক্তদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ঝুঁকতে হল FIFA-কে। ২০২৬ FIFA বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছিল, যার পর কিছু ম্যাচের জন্য সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম কমিয়ে ৬০ ডলার করা হয়েছে। এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে টিকিটের দাম ৪,০০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সমর্থকদের স্বস্তি দিতে FIFA এখন “সাপোর্টার এন্ট্রি টিয়ার” নামে নতুন ক্যাটাগরি চালু করেছে। তবে এই স্বস্তিকে সীমিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
৬০ ডলারের টিকিট, কিন্তু সংখ্যা খুবই কম
সস্তা টিকিটের দাম আকর্ষণীয় হলেও এর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। প্রতিটি ম্যাচে প্রতি দলের জন্য মাত্র ৪০০ থেকে ৭৫০টি টিকিটই এই দামে পাওয়া যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই টিকিট সাধারণ দর্শকদের জন্য নয়, বরং সেই ম্যাচে অংশ নেওয়া দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলিকে দেওয়া হবে। অর্থাৎ যেসব দেশের দল বিশ্বকাপে খেলছে না, সেই দেশের সমর্থকদের জন্য ৬০ ডলারের টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে দাম কমেছে ঠিকই, কিন্তু নাগাল এখনও সীমিত।
প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বহু দিক থেকেই ঐতিহাসিক হতে চলেছে। এই প্রথম ৪৮টি দল অংশ নেবে, যেখানে আগে ছিল ৩২টি দল। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট থেকে FIFA-র অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার আয়ের আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সমর্থকদের জন্য এটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ বলেই ধরা হচ্ছে। FIFA-র দাবি, টিকিট বিক্রির বর্তমান ধাপেই ২ কোটির বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা চাহিদার মাত্রা স্পষ্ট করে।
FIFA-কে ঘিরে আবার প্রশ্ন
ভক্ত সংগঠনগুলির দাবি, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি চাপের মুখে নেওয়া হয়েছে। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপের মতো সংগঠন একে “ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা” বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, FIFA-র টিকিট নীতি তড়িঘড়ি তৈরি হয়েছে এবং এতে সমর্থকদের সঙ্গে কোনও বাস্তব পরামর্শ করা হয়নি। FIFA সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো ইতিমধ্যেই টিকিটের দাম ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাই সস্তা টিকিটের এই সিদ্ধান্ত স্বস্তি দিলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—FIFA কি সত্যিই সমর্থকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে, নাকি শুধু প্রতিবাদ সামলানোর চেষ্টা করছে।





