SAFC

হালান্ড না হ্যারি কেন, কোয়ার্টার ফাইনালে কার জাদু চলবে? একটি হার আর শেষ হয়ে যাবে স্বপ্ন*

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি নরওয়ে। হ্যারি কেন ও এরলিং হালান্ডের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। জয়ী দল সেমিফাইনালে উঠবে, আর পরাজিত দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে একটি ছোট ভুল যে কোনও দলের পুরো স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে। ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড এবং নরওয়ে মুখোমুখি হবে। দুই দলের নজর সেমিফাইনালের টিকিটের দিকে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ২ বড় তারকাকে নিয়ে। একদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন, অন্যদিকে নরওয়ের বিপজ্জনক এরলিং হালান্ড। এবার প্রশ্ন একটাই, বড় ম্যাচে কার জাদু চলবে?

মেক্সিকোকে হারিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ড শেষ ১৬-র ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচ সহজ ছিল না, কিন্তু ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা চাপের মধ্যে নিজেদের সামলে জয় অর্জন করেছেন। অধিনায়ক হ্যারি কেন দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা এবং ফিল ফোডেনের মতো খেলোয়াড়রাও দলের বড় শক্তি। এই খেলোয়াড়রা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ম্যাচের পুরো ছবি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

ব্রাজিলকে হারিয়ে চমকে দিয়েছে নরওয়ে

নরওয়েকে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে চমকপ্রদ দলগুলির মধ্যে গণ্য করা হচ্ছে। শেষ ১৬-তে তারা ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিল। এর আগে নরওয়ে আইভরি কোস্টকেও হারিয়েছিল। টানা বড় দলগুলির বিরুদ্ধে জয় নরওয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এরলিং হালান্ডের উপস্থিতি দলকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। যদি তিনি গোল করার একটি পরিষ্কার সুযোগও পান, তাহলে ইংল্যান্ডের সমস্যা বাড়তে পারে।

হালান্ড এবং কেনের মধ্যে আসল লড়াই

এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প এরলিং হালান্ড এবং হ্যারি কেনের লড়াই। হালান্ড ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এখনও পর্যন্ত ৭টি গোল করেছেন, অন্যদিকে হ্যারি কেনের নামে ৬টি গোল রয়েছে। দুই খেলোয়াড়ই গোলের সামনে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়। একটি সঠিক পাস এবং একটি দুর্দান্ত শট ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। এই কারণেই দুই দলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ওপরও প্রচণ্ড চাপ থাকবে।

মাঝমাঠেও হবে বড় সংঘর্ষ

শুধু হালান্ড এবং কেনই নন, মাঝমাঠেও দুর্দান্ত লড়াই দেখা যেতে পারে। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম এবং নরওয়ের মার্টিন ওডেগার্ড নিজেদের দলের খেলা সামলাতে বড় ভূমিকা পালন করেন। কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড দলকে কিছুটা শক্তিশালী মনে হচ্ছে, কিন্তু ব্রাজিলকে হারানোর পর নরওয়েকে হালকাভাবে নেওয়া বড় ভুল হতে পারে। নরওয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা যে কোনও বড় দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে।

একটি জয় খুলে দেবে সেমিফাইনালের দরজা

ইংল্যান্ড এবং নরওয়ের এই ম্যাচ মিয়ামি গার্ডেন্সে খেলা হবে। ভারতে দর্শকরা এই ম্যাচ ১১ জুলাই গভীর রাত ২টা ৩০ মিনিট থেকে দেখতে পারবেন। জয়ী দল সরাসরি সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে, অন্যদিকে পরাজিত দলের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যাবে। এবার গোটা বিশ্বের নজর হালান্ড এবং হ্যারি কেনের দিকে। দেখার বিষয় হবে, বড় ম্যাচে কে নিজের দলের নায়ক হয়ে ওঠেন এবং কার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button