
ইনজুরি টাইমে ভেঙে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন, ইতিহাস গড়ল কানাডা
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ কানাডা ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার নকআউট পর্বে জয় তুলে নিল। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইনজুরি টাইমের ৯০+২ মিনিটে স্টিফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত ভলি গোলেই নিশ্চিত হয় ঐতিহাসিক জয়। আলফোনসো ডেভিসের প্রত্যাবর্তনও কানাডার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে রাউন্ড অফ-১৬-এ নেদারল্যান্ডস বা মরক্কোর মুখোমুখি হবে কানাডা।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ কানাডা ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে ইনজুরি টাইমে। ৯০+২ মিনিটে স্টিফেন ইউস্তাকিও দুর্দান্ত ভলি শটে গোল করে কানাডাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম নকআউট জয় এনে দেন। এই হারের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দান্ত অভিযানও শেষ হয়ে গেল।
৯০ মিনিটজুড়ে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। কানাডা একের পর এক আক্রমণ চালালেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনভেন উইলিয়ামস একাধিক অসাধারণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডিফেন্সের একটি ভুল দলের জন্য বড় মূল্য চুকাতে হয়। বল ইউস্তাকিওর কাছে পৌঁছায় এবং তিনি কোনো ভুল না করে জয়সূচক গোল করে দেন।
জয়ের পর আবেগাপ্লুত কোচ
ম্যাচ শেষ হতেই কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই জয় শুধু দলের নয়, পুরো দেশের ফুটবল ইতিহাসের বড় অর্জন। তাঁর মতে, খেলোয়াড়রা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছে এবং সেই লড়াইয়ের মানসিকতাই এই ঐতিহাসিক জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ। তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্ম দীর্ঘদিন এই দলকে মনে রাখবে।
ইউস্তাকিও বললেন— মিশন এখনও শেষ নয়
ম্যাচের নায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিও এই জয়ের কৃতিত্ব পুরো দলকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের সবচেয়ে বড় শক্তি খেলোয়াড়দের ঐক্য। সবাই একটি পরিবারের মতো খেলেন এবং এই বিশ্বাসই কঠিন ম্যাচে জয় এনে দেয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন, দলের লক্ষ্য শুধু প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নয়, বরং সামনে আরও ইতিহাস গড়া।
ডেভিসের প্রত্যাবর্তনে বাড়ল আত্মবিশ্বাস
কানাডার জন্য আরেকটি সুখবর ছিল তারকা ডিফেন্ডার আলফোনসো ডেভিসের প্রত্যাবর্তন। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে তিনি গ্রুপ পর্বে খেলতে পারেননি, তবে এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন। তাঁর উপস্থিতিতে দলের আক্রমণে নতুন গতি আসে এবং কানাডার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। এবার দল রাউন্ড অফ-১৬-এ নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডার নজর
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৩০তম স্থানে থাকা কানাডা এবার প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হারের পরও নিজের দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। কানাডার এই জয় বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্যগুলোর একটি হয়ে গেছে এবং এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর তাদের পরবর্তী ম্যাচের দিকে।





