
যখন কট্টরপন্থীরা বাতিল করাল মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ, জেনে নিন সেই দিনের পুরো ঘটনা!
জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ কট্টরপন্থীদের হামলায় বন্ধ হয়ে যায়। মাঠে বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও আহতের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়। “মেয়েদের ফুটবল হারাম” মন্তব্যে বিতর্ক বাড়লেও, BFF জানায়—নারীদের খেলা থামানো যাবে না।
বহু বছর আগের কথা। জয়পুরহাটে মেয়েদের একটি সাধারণ ফুটবল ম্যাচ শান্তভাবে চলছিল। মাঠে খেলা, গ্যালারিতে উৎসাহ—সব কিছু ছিল স্বাভাবিক। হঠাৎ দূর থেকে শোরগোল শুনতে পাওয়া গেল। মুহূর্তের মধ্যে শত শত কট্টরপন্থী মাঠের দিকে ধেয়ে এলো। একটি ইসলামি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও স্লোগান দিতে দিতে মাঠে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপ হয়ে গেল যে খেলোয়াড়, দর্শক, আয়োজক—সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। বাধ্য হয়ে ম্যাচ মাঝপথেই বন্ধ করতে হয়। সেই দিন শুধু একটি ম্যাচ থামেনি—মেয়েদের খেলাধুলার ইচ্ছাশক্তিকেও বড় ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল।
দিনাজপুরে একই ঘটনা—আরও ভয়ংকর রূপে
জয়পুরহাটের ঘটনা মানুষ ভুলে ওঠার আগেই পরের দিন দিনাজপুরে আবারও একই কাণ্ড ঘটে। সেখানেও মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ চলছিল, আর হঠাৎই একদল কট্টরপন্থী মাঠে হামলে পড়ে। এবার শুধু স্লোগান বা ভাঙচুর নয়—লাঠিচার্জ, পাথর ছোড়া, আর চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। চারজন আহত হন, এবং কর্মকর্তারা দ্রুত খেলোয়াড়দের নিরাপদে মাঠের বাইরে নিয়ে আসেন। যে মাঠে থাকার কথা ছিল তালি-উল্লাস, সেখানে কয়েক মিনিটেই তৈরি হয় আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলার পরিবেশ।
একটি মন্তব্য, যা আগুনে ঘি ঢেলে দিল
ঘটনার পর এক মাদরাসার প্রধান আবু বকর সিদ্দিক প্রকাশ্যে বলেন—“মেয়েদের ফুটবল হারাম।” এই মন্তব্য পুরো পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তোলে। কট্টরপন্থীরা এটিকে ধর্মীয় ইস্যু বানিয়ে মেয়েদের খেলাধুলার বিরুদ্ধে আরও চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তখনকার বাংলাদেশে উগ্রবাদী শক্তির প্রভাব বাড়ছিল, আর মেয়েদের খেলা তাদের সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল। মাঠে খেলা ছিল চ্যালেঞ্জ, কিন্তু সমাজের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই ছিল আরও কঠিন।
BFF-এর কঠোর অবস্থান
বঙ্গবন্ধু ফুটবল ফেডারেশন (BFF) তখনই ঘটনাগুলোর কঠোর নিন্দা জানায়। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল—“ফুটবল সবার অধিকার, মেয়েদের থামানো যাবে না। যারা বিরোধিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই বার্তা ছিল নারী ফুটবলারদের জন্য বিরাট সাহসের উৎস। সময় পেরিয়ে গেছে, পরিস্থিতি অনেক জায়গায় বদলেছে, তবে সেই দিনের গল্প আজও মনে করিয়ে দেয়—খেলা শুধু খেলা নয়, এটা লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে নারীরা বারবার জয়ী হওয়ার ক্ষমতা রাখে।





