Cricket

আইপিএল তারকার বিরুদ্ধে এফআইআরের পর ঘুরল মামলার মোড়! রাঁধুনির গুরুতর অভিযোগ, এবার ব্যাখ্যা দিলেন শশাঙ্ক সিংও

আইপিএল ক্রিকেটার শশাঙ্ক সিং ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে রাঁধুনির অভিযোগে এফআইআর হওয়ার পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে শশাঙ্ক পাল্টা চুরি ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের দাবি করেছেন। এখন পুরো বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ করবে পুলিশের তদন্ত।

আইপিএল ক্রিকেটার শশাঙ্ক সিং এবং তাঁর অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস বাবা শৈলেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে ভোপালে এক রাঁধুনির অভিযোগের পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। রেওয়া নিবাসী বিপেন্দ্র সিং পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে দাবি করেছেন, কাজের সময় তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আপাতত পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।

এফআইআরে কী কী অভিযোগ করা হয়েছে?

অভিযোগ অনুযায়ী, বিপেন্দ্র সিংকে মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে রান্নার কাজের জন্য রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত তাঁর কাজে ভুল ধরতেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর মোবাইল ফোন নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া হয়েছিল। যখন তিনি মোবাইল ফেরত চান, তখনই বিরোধ বাড়ে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শৈলেশ সিং, শশাঙ্ক সিং এবং এক ড্রাইভার তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। পাশাপাশি থাকা ও খাওয়ার খরচের নামে তাঁর মোবাইল থেকে ১০০০ টাকা ট্রান্সফার করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

শশাঙ্ক সিং অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বললেন

অন্যদিকে শশাঙ্ক সিং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওই যুবক নিজেকে রাঁধুনি বলে পরিচয় দিয়েছিল, কিন্তু সে ঠিকমতো রান্না করতে পারত না। শশাঙ্কের দাবি, কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁর কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হতে শুরু করে। তিনি আরও বলেন, ওই যুবক বাড়ির বিভিন্ন অংশ, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং ওয়ার্ডরোবের ছবি তুলছিল।

চুরির অভিযোগও তুললেন

শশাঙ্ক সিং বলেন, বাড়ি থেকে রুপোর গণেশ মূর্তি হারিয়ে যাওয়ার পর ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দাবি, মোবাইল পরীক্ষা করে বাড়ির বহু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়, যা অন্য একজনকে পাঠানো হচ্ছিল। শশাঙ্কের বক্তব্য, এই কারণেই ওই যুবককে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সেই সময় পুলিশকে খবর না দেওয়া তাঁদের ভুল ছিল।

মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার

শশাঙ্ক সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ওই যুবকের সঙ্গে কোনো ধরনের মারধর করেননি। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যুবকটি হয়তো চুরির উদ্দেশ্যে এসেছিল অথবা কাউকে দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর মতে, এফআইআর দায়ের হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা আছে, কিন্তু পুলিশ কোন তথ্যের ভিত্তিতে মামলা নিয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও তাঁর পূর্ণ তথ্য নেই।

তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে পুরো ছবি

এই মুহূর্তে মামলায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছে এবং দুই পক্ষের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়া এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের পরই এই ঘটনার প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button