
ক্যাপ্টেনি ছাড়ার পর প্রথম ইনিংসেই শান্তোর ঝড়ো সেঞ্চুরি, মুরাদ ও জয়েরও দাপট
ক্যাপ্টেনি ছাড়ার পর টেস্টে ফিরেই শতক হাঁকালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। জয়ের ১৭১ রান ও হাসান মুরাদের ৬ উইকেটেও বাংলাদেশ ইনিংস ও ৪৭ রানে জয় পায়। এই ম্যাচে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই বাংলাদেশ দাপট দেখায়।
সিলেটেতে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হওয়া টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ইনিংস এবং ৪৭ রানে জয় পেয়েছে, তবে এই জয়ে দলের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর পুরনো ছন্দে ফেরা। শান্তো টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ফিরে এসে ১১৪ বলের দুর্দান্ত ১০০ রান করেন, যা তার অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থ সেঞ্চুরি। কয়েক মাস আগে তিনি শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন, কারণ বলা হয়েছিল বোর্ড তার সঙ্গে আলোচনা না করেই নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক ঘোষণা করেছে। তখন শান্তো আরও বলেছিলেন যে তিনজন আলাদা অধিনায়ক থাকা দলের জন্য স্থিরতা আনে না। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম তাকে আবারও টেস্ট অধিনায়কত্ব নিতে রাজি করান এবং ফিরে আসার প্রথম ইনিংসেই তিনি আক্রমণাত্মক এবং ভুলহীন সেঞ্চুরি করেন। ম্যাচের পর শান্তো বলেন যে এটি কেবল একটি ভালো শুরু এবং অধিনায়ক হলেও তিনি নিজেকে প্রথমে একজন ব্যাটার হিসেবেই ভাবেন, যেন তিনি দুই দায়িত্বই ঠিকভাবে পালন করতে পারেন।
ক্যাপ্টেনি ছাড়ার শুরুর দিনগুলো কঠিন ছিল – শান্তো
শান্তো জানান যে ক্যাপ্টেনি ছাড়ার প্রথম কয়েকটি দিন তার জন্য কঠিন ছিল, তবে কিছুদিন পরই তিনি নিজেকে সামলে নেন। তিনি বলেন ক্যাপ্টেনির চাপ থেকে দূরে সরে গিয়ে পরিবারকে সময় দিয়েছেন এবং নিজেকে মানসিক ও টেকনিক্যালভাবে আরও উন্নত করেছেন। তার মতে, এই সময়টি তার জন্য শেখার এবং নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তোলার সুযোগ ছিল। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করেছে এবং যখন তিনি আবার অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামেন, তখন পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেন। তার এই ফিরে আসা দলের ম্যানেজমেন্টকেও আশ্বস্ত করেছে।
মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রানের ইনিংস
বাংলাদেশের বড় জয়ে মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রানের ইনিংসও বিশেষ ছিল। দীর্ঘদিন খারাপ ফর্মে থাকায় তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই টেস্টে তার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন দেখা যায়। এই ইনিংস বাংলাদেশের কোনও ওপেনারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। শান্তো বলেন যে জয়কে এমন ফর্মে দেখা খুবই আনন্দের এবং সে মানসিকভাবে নিজেকে দারুণভাবে শক্ত করেছে। একই সঙ্গে তিনি নতুন লেফট-আرم স্পিনার হাসান মুরাদেরও প্রশংসা করেন, যিনি অভিষেক টেস্টে ৬ উইকেট নেন। এর মধ্যে চারটি আসে দ্বিতীয় ইনিংসে, যা ম্যাচকে পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে এনে দেয়।
‘মুরাদ ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করবে’
শান্তো বলেন মুরাদ এই সুযোগের জন্য অনেকদিন অপেক্ষা করেছে এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রতি মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। তার ধৈর্য ও পরিশ্রম তাকে এই পর্যায়ে এনেছে। অধিনায়ক আশা প্রকাশ করেন যে মুরাদ ভবিষ্যতেও আরও উন্নতি করবে। জয়ের ফিরে আসাকেও তিনি দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখেন এবং আশা করেন যে সে এই মানসিক শক্তি নিয়ে ভবিষ্যতেও খেলবে। মোট而言, শান্তোর অধিনায়কত্বে দল সিলেট টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং এবং মানসিক দৃঢ়তা—তিন ক্ষেত্রেই অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা বাংলাদেশকে একতরফা জয় এনে দিয়েছে এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।





