Other Sports

ভারতের সবচেয়ে দ্রুততম ধাবক গুরিন্দরবীর সিং কীভাবে হলেন, সকাল ৫:৩০-এ ওঠা, কড়া ডায়েট আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনিং

Gurindervir Singh 100 মিটার দৌড় মাত্র 10.09 সেকেন্ডে শেষ করে ভারতের সবচেয়ে দ্রুততম ধাবক হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার কঠোর রুটিন, সকাল ৫:৩০-এ ওঠা, নিয়ন্ত্রিত ডায়েট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনিং। গুরিন্দরবীরের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন এখন দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন প্রতিযোগিতায় স্প্রিন্টার গুরিন্দরবীর সিং 100 মিটার দৌড় মাত্র 10.09 সেকেন্ডে শেষ করে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর গুরিন্দরবীর এখন ভারতের সবচেয়ে দ্রুততম ধাবক হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব কোচ, ডায়েটিশিয়ান এবং কঠোর শৃঙ্খলাকে দিয়েছেন। গুরিন্দরবীরের মতে সঠিক ট্রেনিং, ফ্যাট লস এবং নিয়ন্ত্রিত খাবারই তার গতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সকাল ৫:৩০ থেকেই শুরু হয় দিন

গুরিন্দরবীর সিংয়ের রুটিন অত্যন্ত কঠোর এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী তার অ্যালার্ম প্রতিদিন সকাল ঠিক ৫:৩০-এ বাজে এবং তিনি কখনও দেরিতে ওঠেন না। সকালবেলা ওঠার পর তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে জিম এবং স্প্রিন্ট ট্রেনিং করেন। কিছু দিনে তিনি টেম্পো রান এবং হাই-ইনটেনসিটি ওয়ার্কআউটও করেন। ট্রেনিংয়ের পর লাঞ্চ এবং তারপর প্রায় এক ঘণ্টার ন্যাপ নেন। বিশেষজ্ঞদের মতে ভালো ঘুম এবং বিশ্রাম মাংসপেশির পুনরুদ্ধার এবং পারফরম্যান্সের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

খাবার নয়, পারফরম্যান্সের জ্বালানি

গুরিন্দরবীর সিং নিজের ডায়েটকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তার মতে প্রতিটি মিলের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। তার ব্রেকফাস্টে ওটস, ফল, এগ হোয়াইট, জুস এবং কখনও কখনও ইডলি বা দোসা থাকে। সারাদিন তিনি সুষম পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং সালাদ খান। তার মূল লক্ষ্য শরীরকে হালকা এবং শক্তিতে ভরপুর রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে কার্বস শরীরকে শক্তি দেয়, আর প্রোটিন মাংসপেশি মেরামতে সাহায্য করে।

খাবারের লোভও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়

প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মতো গুরিন্দরবীরেরও পছন্দের খাবার খেতে ইচ্ছে করে। তিনি জানান, মাঝে মাঝে মায়ের হাতের বেগুন ভর্তা, আলু-গাজর-মটর, মালাই মাশরুম, পিজ্জা এবং বার্গার খেতে মন চায়। কিন্তু ফিটনেস এবং গতি বজায় রাখতে তাকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তার কথায়, এই জীবন তিনি নিজেই বেছে নিয়েছেন, তাই শৃঙ্খলার সঙ্গে আপস করতে পারেন না।

রিকভারি এবং মানসিক শান্তিতেও ফোকাস

গুরিন্দরবীর শুধু ট্রেনিং এবং ডায়েটেই নয়, মানসিক ভারসাম্যেও পুরো গুরুত্ব দেন। ন্যাপ নেওয়ার পর তিনি নিজের ঘর পরিষ্কার করেন, বই পড়েন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া তার রুটিনের অংশ। তার বিশ্বাস, মানসিক শান্তি এবং ভালো ঘুমই পরের দিনের ভালো পারফরম্যান্সের প্রস্তুতি তৈরি করে।

তরুণদের জন্য হয়ে উঠছেন অনুপ্রেরণা

মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৌড়ের পিছনে লুকিয়ে থাকে বছরের পর বছর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং শৃঙ্খলা। গুরিন্দরবীর সিংয়ের গল্প সেটাই প্রমাণ করে যে শুধু প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক জীবনযাপনই সাফল্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এখন দেশজুড়ে তরুণরা তাকে নতুন স্পোর্টস আইকন হিসেবে দেখছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button