SAFC

FIFA-এর সিদ্ধান্তে বিতর্ক! এক খেলোয়াড়ের ২ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, অন্যজন রেড কার্ডের পরও পেলেন স্বস্তি

জ্যারেল কোয়ানসার দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ফোলারিন বালোগুনের শাস্তি স্থগিত হওয়ায় ফিফার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই ধরনের ফাউলে ভিন্ন শাস্তি দেওয়ায় সাবেক রেফারিরাও স্বচ্ছতা ও একরূপতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ চলাকালীন FIFA তাদের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছে। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে রেড কার্ড পাওয়ার পর ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন প্রায় একই ধরনের ফাউলের জন্য রেড কার্ড পাওয়া সত্ত্বেও পরের ম্যাচে খেলার অনুমতি পেয়েছেন। এই পার্থক্য নিয়েই বিতর্ক আরও বেড়েছে।

কোয়ানসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ইংল্যান্ড এবং মেক্সিকোর রাউন্ড অব ১৬ ম্যাচে জ্যারেল কোয়ানসা স্টাডস-আপ ট্যাকল করেছিলেন। ভিডিও পর্যালোচনার পর রেফারি এটিকে গুরুতর ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে রেড কার্ড দেখান। এরপর FIFA-এর শৃঙ্খলা কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করারও কোনো ব্যবস্থা নেই।

বালোগুন পেলেন বড় স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্র এবং বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার ম্যাচে ফোলারিন বালোগুনও প্রায় একই ধরনের ফাউলের জন্য রেড কার্ড দেখেছিলেন। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে FIFA শৃঙ্খলাবিধির অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সেই শাস্তি এক বছরের প্রবেশনে স্থগিত করে। এরপর তিনি বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচে খেলার জন্য উপলব্ধ ছিলেন।

সাবেক রেফারিরাও তুলছেন প্রশ্ন

FIFA-এর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বহু সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারিও প্রশ্ন তুলছেন। সাবেক FIFA রেফারি কিথ হ্যাকেটের মতে, দুই খেলোয়াড়ের ফাউল প্রায় একই রকম ছিল, তাই শাস্তিও একই হওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে সাবেক রেফারি জোনাস এরিকসনও বলেছেন, খেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একরূপতা এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত খেলোয়াড় ও দলগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

FIFA-এর জবাবের অপেক্ষা

প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বালোগুনের মামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প FIFA সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। তবে FIFA কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপের কথা অস্বীকার করেছে। তা সত্ত্বেও সংস্থাটি এখনও স্পষ্ট করেনি যে, বালোগুনের ক্ষেত্রে কেন অনুচ্ছেদ ২৭ প্রয়োগ করা হলো, অথচ কোয়ানসাকে সরাসরি ২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এখন FIFA-এর স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন উঠছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button