SAFC

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দাপটে ব্রাজিলের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, হাইতিকে ৩-০ হারিয়ে নকআউটের দিকে শক্ত পদক্ষেপ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ব্রাজিল দারুণ প্রত্যাবর্তন করে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। এই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি একটি গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে থাকা ব্রাজিল এই জয়ের মাধ্যমে নকআউটের পথে বড় পদক্ষেপ নিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ব্রাজিল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে হাইতিকে ৩-০ হারিয়ে নিজেদের ইচ্ছা স্পষ্ট করে দিয়েছে। আগের ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্রয়ের পর ব্রাজিল দলকে লাগাতার সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছিল। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল এবং প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকেও সমর্থকদের অসন্তোষ সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু ফিলাডেলফিয়ায় খেলা এই ম্যাচে ব্রাজিল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা দেখায় এবং হাইতিকে কোনও সুযোগ দেয়নি।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র হলেন জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক

ব্রাজিলের এই দুর্দান্ত জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড় পুরো ম্যাচে নিজের জাদু ছড়িয়েছেন। তিনি একটি গোল করেছেন এবং দুটি গোল হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর গতি, পাসিং এবং আক্রমণাত্মক খেলা হাইতির রক্ষণভাগকে পুরোপুরি সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। এই কারণেই ব্রাজিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পুরোপুরি দাপট দেখিয়েছে।

প্রথমার্ধেই ঠিক হয়ে গেল ম্যাচ

ব্রাজিল ম্যাচের প্রথম গোলটি ২৩তম মিনিটে করে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোরালো শট হাইতির গোলকিপার ঠিকভাবে সামলাতে পারেননি এবং বলটি ম্যাথিয়াস কুনহার সামনে পৌঁছে যায়। কুনহা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বলটি গোলে পাঠিয়ে দেন। এর পরে ৩৬তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত লম্বা পাস দেন, যেটিকে কুনহা গোলে বদলে স্কোর ২-০ করেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেই গোল করে ব্রাজিলের ব্যবধান ৩-০ করে দেন। তিনি দুর্দান্ত রান নিয়ে গোলকিপারকে ফাঁকি দেন এবং বল জালে পাঠিয়ে দেন। এই গোলের পর ম্যাচ প্রায় পুরোপুরি ব্রাজিলের দিকে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট বজায়

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিল আক্রমণ চালিয়ে যায়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আরও একটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির শট পোস্টে লেগে যায়। সেই বল গোলে গেলে ভিনিসিয়ুসের নামে আরও একটি অ্যাসিস্ট যোগ হতো। এর পাশাপাশি তিনি ডিফেন্সেও অবদান রাখেন এবং অনেক সময় হাইতির আক্রমণ থামাতে সাহায্য করেন।

গ্রুপে শক্ত হল অবস্থান

এই জয়ের সঙ্গে ব্রাজিল গ্রুপ-সি-তে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে। এখন ব্রাজিল এবং মরক্কো দুই দলেরই চার করে পয়েন্ট, আর স্কটল্যান্ড তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে হাইতি টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারার পর টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রথম দল হয়ে গেছে।

নকআউটের দিকে এগোচ্ছে ব্রাজিল

মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর যে দলের উপর প্রশ্ন উঠছিল, সেই ব্রাজিল এখন নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র প্রমাণ করে দিয়েছেন যে বড় টুর্নামেন্টে তিনি দলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ উইনার হতে পারেন। এখন ব্রাজিলের নজর পরের ম্যাচে থাকবে, যেখানে জয় পেয়ে দল নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা প্রায় পাকা করতে চাইবে। ৪৫০ শব্দের বেশি এই জয়ের গল্প আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দাবিদার কেন মনে করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button