
মা বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন, মেয়ে সংগ্রামকে শক্তি বানিয়ে পরে ফেলল ভারতের জার্সি, পড়ুন অনুপ্রেরণার গল্প!
মধ্যপ্রদেশের বড়ওয়ানির তরুণ হকি খেলোয়াড় স্নেহা দাওদে কঠিন সংগ্রামকে জয় করে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-18 মহিলা হকি দলে জায়গা করে নিয়েছেন। আর্থিক কষ্ট, মায়ের বাড়ি বাড়ি কাজ করা এবং সীমিত সুযোগের মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম থামাননি তিনি। এবার জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ভারতের জার্সি পরে মাঠে নামবেন স্নেহা, যা পুরো জেলার জন্য গর্বের মুহূর্ত।
মধ্যপ্রদেশের বড়ওয়ানি জেলার স্নেহা দাওদে এমন কিছু করে দেখিয়েছেন, যার স্বপ্ন প্রতিটি খেলোয়াড় দেখে। সংগ্রাম এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক হয়ে ওঠা স্নেহার নির্বাচন হয়েছে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-18 মহিলা হকি দলে। এবার তিনি 29 মে থেকে 6 জুন 2026 পর্যন্ত জাপানের কাকামিগাহারা শহরে অনুষ্ঠিত মহিলা অনূর্ধ্ব-18 এশিয়া কাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই সাফল্য তার পরিবার এবং পুরো জেলার জন্য গর্বের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
বড়ওয়ানির প্রথম আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়
হকি ইন্ডিয়া ঘোষিত 18 সদস্যের দলে জায়গা পেয়ে স্নেহা জেলার প্রথম এমন খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন, যিনি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের জার্সি পরবেন। ভারতীয় দলকে পুল-এ-তে কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে। এখন সবার নজর স্নেহার পারফরম্যান্সের দিকে।
সংগ্রামে ভরা ছিল যাত্রা
স্নেহার পথ মোটেও সহজ ছিল না। তার বাবা রাজেশ জুতো-চপ্পলের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন, আর মা মঞ্জুলা বাড়িতে কাজ করে পরিবার চালান। আর্থিক অবস্থা খুবই দুর্বল ছিল, কিন্তু পরিবার কখনও মেয়ের স্বপ্ন ভাঙতে দেয়নি। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি এসেছে যখন মা কাজের জায়গা থেকে বেঁচে যাওয়া খাবার এনে মেয়েকে খাওয়াতেন।
পিসি চিনেছিলেন প্রতিভা
প্রায় ছয় বছর আগে স্নেহার পিসি পিঙ্কি দাওদে, যিনি নিজেও জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় ছিলেন, তাকে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে আসেন। কোচরা শুরু থেকেই তার মধ্যে আবেগ এবং শৃঙ্খলা দেখতে পেয়েছিলেন। প্রচণ্ড রোদ হোক বা বৃষ্টি, স্নেহা কখনও অনুশীলন বাদ দেননি এবং নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন।
রোজ 5 কিলোমিটার দৌড় আর 4 ঘণ্টা অনুশীলন
স্নেহার দৈনন্দিন জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন। তিনি প্রতিদিন 5 কিলোমিটার দৌড়াতেন এবং সকাল-সন্ধ্যা দুই ঘণ্টা করে হকির অনুশীলন করতেন। পরে গ্বালিয়রের মহিলা হকি অ্যাকাডেমিতে তিনি আরও ভালো প্রশিক্ষণ এবং পুষ্টির সুযোগ পান। গত তিন বছর ধরে তিনি সেখানেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং মিডফিল্ডার হিসেবে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
চোট পেলেও মাঠ ছাড়েননি
স্নেহার সাহসের আন্দাজ এই ঘটনা থেকেই করা যায় যে, একটি ম্যাচে চোখে গুরুতর চোট লাগার পরও তিনি মাঠ ছাড়েননি। চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে তিনি আবার খেলতে নামেন এবং দলের পাশে দাঁড়ান। এখন পর্যন্ত সাতটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা স্নেহার গল্প প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির সামনে সব বাধাই ছোট হয়ে যায়।





