SAFC

ভারতে মেসির প্রথম দিন: কলকাতায় বিক্ষোভ, হায়দরাবাদে স্বস্তি… শেষ পর্যন্ত কী হলো, পড়ুন

কলকাতায় বিশৃঙ্খলার পর হায়দরাবাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল মেসির ভারত সফর। দুর্বল ব্যবস্থাপনা বনাম সুশৃঙ্খল আয়োজনে দুই শহরের বিপরীত চিত্রে ভক্তদের আবেগ, ক্ষোভ ও উচ্ছ্বাস একসঙ্গে ফুটে উঠল।

আর্জেন্টিনার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সুপারস্টার লিওনেল মেসির ভারত সফর ছিল আশা ও রোমাঞ্চে ভরা, কিন্তু প্রথম দিনেই সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। প্রায় ১৪ বছর পর ভারতে আসা মেসির জন্য ভক্তদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রথম ইভেন্টটি বিক্ষোভে রূপ নেয়। সল্টলেক স্টেডিয়ামে হাজার হাজার ভক্ত মেসির এক ঝলক দেখার জন্য জড়ো হয়েছিলেন, কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেসি মাত্র ১০–১৫ মিনিট স্টেডিয়ামে থাকতে পেরেছিলেন এবং মাঝপথেই অনুষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। প্রত্যাশামতো মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভক্তরা ভাঙচুর শুরু করে, ফলে অনুষ্ঠান মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয়।

ভক্তদের ক্ষোভ
কলকাতার অনুষ্ঠানটি বেশি আলোচনায় আসে মূলত দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে। প্রবেশপথ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভক্তদের চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়। মেসি মঞ্চে উঠলেও ভক্তদের সঙ্গে খোলামেলা দেখা করার বা সময় দেওয়ার সুযোগ পাননি। যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে মেসি চলে যাচ্ছেন, তখনই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চেয়ার ভাঙা, গেটের সামনে ধাক্কাধাক্কি—পুরো স্টেডিয়াম বিশৃঙ্খলায় ডুবে যায়। এই ঘটনার পর সবার নজর গিয়ে পড়ে মেসির পরবর্তী ইভেন্ট, অর্থাৎ হায়দরাবাদের দিকে। প্রশ্ন ছিল—সেখানেও কি একই অবস্থা হবে, নাকি আয়োজকেরা শিক্ষা নেবে?

হায়দরাবাদে স্বস্তি
সন্ধ্যা গড়াতেই হায়দরাবাদে চিত্রটা পুরোপুরি বদলে যায়। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি কোনো নাটক ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এখানে মেসি হাত নেড়ে ভক্তদের অভিবাদন জানান এবং তাঁদের উচ্ছ্বাস বাড়ান। তিনি একটি ফুটবলে জোরালো শট মেরে তা দর্শকদের দিকে পাঠান, সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়াম করতালিতে গমগম করে ওঠে। অনুষ্ঠানে একটি ছোট ফুটবল ম্যাচও হয়, যেখানে মেসি নিজেই মাঠে নামেন। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডিও উপস্থিত ছিলেন এবং কিছু সময় মেসির সঙ্গে ফুটবল খেলেন। প্রায় সোয়া ঘণ্টা ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে সবকিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়।

বিশেষ সাক্ষাৎ
হায়দরাবাদ ইভেন্টের আরেকটি বিশেষ দিক ছিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি। রাহুল গান্ধী মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং কিছুক্ষণ কথাবার্তাও হয়। এই সময় মেসি তাঁকে নিজের বিখ্যাত ১০ নম্বর আর্জেন্টিনা জার্সি উপহার দেন, যা ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। এই সফরে মেসির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় রোদ্রিগো দি পলও ছিলেন। হায়দরাবাদে পাওয়া ভালোবাসা ও সম্মান মেসিকেও স্বস্তি দেয় এবং ভারতীয় ভক্তদের তাদের প্রিয় তারকার এক স্মরণীয় ঝলক দেখার সুযোগ করে দেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button