SAFC

লিওনেল মেসি বনাম রেভন্ত রেড্ডি! হায়দরাবাদের ম্যাচ হয়ে উঠেছে পলিটিক্স+স্পোর্টসের সবচেয়ে বড় শো

হায়দরাবাদে লিওনেল মেসির ম্যাচ এখন শুধু ফুটবল নয়, রাজনৈতিক শোও বটে। মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি নিজে মাঠে নেমে মেসির মুখোমুখি হবেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা তৈরি করেছে।

তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি প্রতি সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটে ফুটবল প্র্যাকটিস করছেন, আর এটা শুধু একটা ম্যাচের প্রস্তুতি নয়, বরং এক বড় বার্তা। ১৩ ডিসেম্বর যখন লিওনেল মেসি হায়দরাবাদে মাঠে নামবেন, তাঁর সামনে থাকবেন কোনও সাধারণ খেলোয়াড় নয়, বরং এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শিরোনাম এখন আর মেসি হায়দরাবাদে নয়, বরং মেসি বনাম রেভন্ত রেড্ডি হয়ে গেছে। বিশ্বের সেরা ফুটবলারের সামনে নিজেকে দাঁড় করানো সাহসের ব্যাপার, আর রেড্ডি জানেন প্রতিটা পাস, প্রতিটা কিক আর প্রতিটা ভুল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হবে। তাই তিনি রাত পর্যন্ত অনুশীলন করছেন যাতে কেউ না বলতে পারে প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।

রাজনীতিতে খেলাধুলার শক্তির ব্যবহার
রেভন্ত রেড্ডি ছোটবেলায় ফুটবল খেলেছেন এবং এখন তিনি এটাকে নতুন রাজনৈতিক ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন। F.A.S.T-Fit, Assertive, Strategic, Tough-এটাই তাঁর প্রজেক্টেড ইমেজ। এটি তাঁর তেলেঙ্গানা রাইজিং ২০৪৭ উদ্যোগেরও অংশ, যেখানে খেলাধুলাকে পড়াশোনার বাধা নয়, বরং এক সম্ভাব্য ক্যারিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। হায়দরাবাদে এর আগে আজহারউদ্দিন, ওवैসি, কিরণ কুমার রেড্ডির মতো খেলোয়াড়-নেতা ছিলেন, কিন্তু মাঠে নিজে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনও মুখ্যমন্ত্রী করেননি। রেড্ডি দেখাচ্ছেন যে তিনি শুধু বক্তৃতায় নয়, মাঠে নেমেও নেতৃত্ব দিতে পারেন।

মেসির মুখোমুখি, কিন্তু আসল লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম
ফুটবল বৈশ্বিক খেলা-রাস্তার ধুলোবালিতেও খেলা যায়, এটা সাধারণ মানুষের খেলা। তাই যখন মুখ্যমন্ত্রী নিজে মাঠে নেমে খেলেন, তিনি সরাসরি Gen-Z-কে বার্তা দেন-ফিটনেস, টিমওয়ার্ক আর পরিশ্রমই প্রকৃত পরিচয়। রাজনীতির বক্তব্যের চেয়ে ৩০ সেকেন্ডের এক ভাইরাল ফুটবল ক্লিপ আজকের তরুণদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। সেই কারণেই রেড্ডি নিজেকে ‘অল ওয়ার্ক, অল প্লে’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরছেন, যা ইনস্টাগ্রাম জেনারেশনের ভাষায় তাঁদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের কৌশল।

হায়দরাবাদকে ‘স্পোর্টস হাব’ বানানোর বড় চাল
এ ম্যাচ শুধু প্রদর্শনী নয়-এ এক মাস্টারস্ট্রোক। আগের সরকারের দামী রেসিং ইভেন্টের বিপরীতে এটাকে “সাধারণ মানুষের খেলা” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৬ FIFA World Cup-এর কয়েক মাস আগে এই ইভেন্ট তেলেঙ্গানাকে বৈশ্বিক স্পোর্টস মানচিত্রে তুলে ধরতে পারে। ভারত ২০৩৬ অলিম্পিকের বিডের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর রেড্ডি হায়দরাবাদকে সেই স্পোর্টস ইকোনমিতে যুক্ত করছেন। পুরনো হায়দরাবাদের কাছে এটি আবেগের মুহূর্ত-১৯৫৬ অলিম্পিকে ভারতীয় দলে ৮ জন খেলোয়াড় ছিলেন হায়দরাবাদ থেকে। RR9 বনাম LM10 সেই সোনালি যুগেরই সম্মান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button