
সাইক্লোন দিতওয়ার মাঝেও জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নতুন আশার আলো
সাইক্লোন দিতওয়ার প্রভাবে কঠিন পরিবেশেও বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করেছে। আমিনুলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই।
সাইক্লোন দিতওয়া শ্রীলঙ্কায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে গেলেও তার ঘন মেঘ ও বৃষ্টি উত্তর তামিলনাড়ু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল বর্ষণে গোটা শহর ভিজে যায় এবং ব্লু টার্ফ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পিচ্ছিল ও ধীর হয়ে ওঠে। চারদিকে গুমোট পরিবেশের মাঝেও বাংলাদেশ জুনিয়র হকি দল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে আশা জাগানো পারফরম্যান্স উপহার দেয়। ক্রিকেট ও ফুটবলের উন্মাদনায় ভরা দেশে হকি বহুদিন ধরেই একটি উদীয়মান খেলা হিসেবে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর প্রতি আগ্রহ দ্রুত বেড়েছে। গত ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো U-21 বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা এই নতুন প্রজন্ম এখন বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার, কিন্তু আমিনুলের হ্যাটট্রিক বাড়াল মনোবল
শনিবারের ম্যাচে বাংলাদেশ যদিও ৩-৫ ব্যবধানে ঐতিহ্যবাহী শক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়, তবু এই ম্যাচে দলের লড়াই ও মানসিক দৃঢ়তা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্স আসে আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে, যিনি দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন। গোলের পর মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাঁর মুঠি বদ্ধ উদযাপন, হাত দু’টি উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এবং উৎফুল্ল চিৎকার—সব মিলিয়ে মনে করিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ কেবল অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই এসেছে। হার সত্ত্বেও এই ম্যাচ দলটির জন্য এক ধরনের আবেগঘন মুক্তির মতো ছিল, কারণ খেলাধুলা প্রায়ই রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানুষকে অনুভূতি প্রকাশের এক বিশেষ সুযোগ দেয়।
ঘাসের শিকড়ে বাড়ছে হকির বিস্তার
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পরিসরে গ্রাসরুট প্রোগ্রাম শুরু করেছে। কর্মকর্তা হাসান জানান, “আমাদের লক্ষ্য দেশের সর্বত্র—পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই—হকি ছড়িয়ে দেওয়া।” প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১০ দল অংশ নিচ্ছে, শিগগিরই আরও আট দল যুক্ত হবে। এরপর মোট ১৮ দলের মধ্য থেকে পাঁচটি সেরা দলকে চূড়ান্ত ধাপে পাঠানো হবে। ফেডারেশনের লক্ষ্য শুধু পুরুষ দলকে শক্তিশালী করা নয়, একটি প্রতিযোগিতামূলক নারীদের দল গড়ে তোলাও। এসব পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের হকি ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
পরের ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে, উন্নতির প্রত্যাশা
প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করেও পাওয়া পরাজয় বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রেখে গেছে। আমিনুলের হ্যাটট্রিক এবং দলের লড়াকু মানসিকতা জানান দিচ্ছে যে তারা আগামী ম্যাচগুলোতে আরও উন্নত খেলা উপহার দিতে প্রস্তুত। রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ, যেখানে ভুল শুধরে আরও ভালো পারফরম্যান্স দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামবে লাল-সবুজের তরুণরা। ডেবিউ বিশ্বকাপের এই অভিজ্ঞতা অমূল্য, এবং সামনে তারা দেশের জন্য আরও ভালো ও রোমাঞ্চকর প্রদর্শন করতে পারে বলে আশা করা যায়।





