Cricket

যখন বিশ্বকাপের টিকিট মিলেছিল, কিন্তু টিম ইন্ডিয়াই ছেড়ে দিয়েছিল সুযোগ, পড়ুন 1950 সালে কী ঘটেছিল?

1950 ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেও ভারত অংশ নেয়নি। জনপ্রিয় ধারণার বিপরীতে খালি পায়ে খেলা নয়, বরং আর্থিক সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রস্তুতির অভাবই ছিল মূল কারণ। এই সিদ্ধান্ত আজও ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় হারানো সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।

ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসে 1950 সাল আজও এক অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবে স্মরণ করা হয়, যা পূরণ হতে পারত কিন্তু হয়নি। সেই সময় ব্রাজিলে ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে এই টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জনও করেছিল। এই সাফল্য ছিল ঐতিহাসিক, কারণ স্বাধীনতার পর প্রথমবার ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, টিম ইন্ডিয়া কখনও ব্রাজিলে পৌঁছায়নি এবং সেই বিশ্বকাপের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়।

কোনো ম্যাচ না খেলেই মিলেছিল বিশ্বকাপের টিকিট

1950 বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ভারতকে বার্মা, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের সঙ্গে রাখা হয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই তিন দেশই নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে ভারত একটি বাছাই ম্যাচও না খেলে সরাসরি বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত হয়। আনুষ্ঠানিক ড্র-এ ভারতকে ইতালি, সুইডেন এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে একই গ্রুপে রাখা হয়েছিল। ভারতীয় ফুটবলের জন্য এটি ছিল এক সোনালি সুযোগ, কিন্তু গল্পের মোড় সেখান থেকেই ঘুরে যায়।

খালি পায়ে খেলার গল্প কতটা সত্য?

অনেক দশক ধরে আলোচনা হয়েছে যে ভারত বিশ্বকাপে খেলেনি কারণ ফিফা খালি পায়ে খেলার অনুমতি দেয়নি। 1948 অলিম্পিকে ভারতীয় খেলোয়াড়রা খালি পায়ে মাঠে নেমেছিলেন এবং দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন। সেই কারণেই এই গল্পটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু ইতিহাসবিদ ও ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পুরোপুরি সত্য নয়। সেই সময় ফিফা বুট পরা বাধ্যতামূলক করেনি। অর্থাৎ ভারতের বিশ্বকাপে না খেলার কারণ খালি পায়ে খেলার নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

আসল কারণ ছিল আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যা

ভারতের ব্রাজিল না যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। সেই সময় বিদেশ সফর ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্বাধীনতার পর দেশ নানা অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। পুরো দলকে ব্রাজিলে পাঠানোর খরচ ছিল ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বড় সমস্যা। এছাড়া দল নির্বাচন ও প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় না থাকার বিষয়টিও সামনে আসে। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে প্রস্তুতির সময় খুব কম ছিল এবং দলকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।

বড় ব্যবধানে হারার ভয়ও ছিল কারণ

সেই সময় ভারতীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের মধ্যে এই আশঙ্কাও ছিল যে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে ভারত বড় ব্যবধানে হারতে পারে। 1948 অলিম্পিকে ভারতীয় দল ভালো খেলেছিল এবং একটি ইতিবাচক সুনাম তৈরি হয়েছিল। কর্মকর্তারা ভয় পেয়েছিলেন যে বিশ্বকাপে খুব খারাপ ফল হলে সেই ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে। তাই ঝুঁকি নেওয়ার বদলে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজও স্মরণ করা হয় সেই সিদ্ধান্ত

অনেক ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদি ভারত 1950 বিশ্বকাপে খেলত, তাহলে ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসই বদলে যেতে পারত। যেমন 1983 ক্রিকেট বিশ্বকাপ ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন পরিচয় দিয়েছিল, তেমনই 1950 সালের বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবলের জন্য মাইলফলক হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। আজও ভারতীয় ফুটবলের আলোচনা হলে 1950 সালের এই সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এবং একে ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারানো সুযোগগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button