
T-20 বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ কেন হিন্দু খেলোয়াড়কে অধিনায়ক বানাল, কী এই খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান, পড়ুন এক ক্লিকে
টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে বাংলাদেশ লিটন দাসকে অধিনায়ক করে বড় বার্তা দিল। হিন্দু পরিচয় সত্ত্বেও পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বে আস্থা রেখেছে বোর্ড। লিটনের অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যান তাঁকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা বানাচ্ছে।
টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়ে লিটন দাসকে দলের অধিনায়ক করেছে। মে ২০২৫-এ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে টি২০ আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং এবার বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তিনিই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন। উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস এই ভূমিকায় নাজমুল হোসেন শান্তোর জায়গা নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও বাহ্যিক চাপ দু’দিক দিয়েই যাচ্ছে। বিশেষ বিষয় হল, লিটন দাস হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং এই পরিচয়ের কারণেই তিনি আগে নিজের দেশেই কিছু কট্টর গোষ্ঠীর নিশানায় পড়েছিলেন। তবুও বোর্ড তাঁর উপর আস্থা রেখে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দলের জন্য পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বই সবার আগে।
দিনাজপুর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পথচলা
লিটন দাসের জন্ম ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলায় এক বাঙালি হিন্দু পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ঝোঁক স্পষ্ট ছিল এবং কঠোর পরিশ্রমের জোরেই তিনি জাতীয় দলে পৌঁছান। ২০১৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করেন এবং ঠিক আট দিন পর ওয়ানডে ক্রিকেটেও অভিষেক হয় তাঁর। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি২০ আন্তর্জাতিক খেলে তিন ফরম্যাটেই পা রাখেন তিনি। শুরুতে লিটন দাস একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবেই খেলতেন, কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে তাঁকে নিয়মিত উইকেটকিপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবেই খেলতে থাকেন। লিটন নিজের দুর্দান্ত টাইমিং, টেকনিক ও দ্রুত রান করার ক্ষমতার জোরে দলে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেন।
নিজের দেশেই ট্রোলিংয়ের শিকার
২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চলাকালীন লিটন দাস বিতর্কেও জড়ান। তখন তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছিলেন এবং সেই সময় কিছু দর্শক তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্ট্যান্ড থেকে তাঁকে ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করা হচ্ছে, যার অর্থ ‘নকল’ বা ‘আবর্জনা’। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা হয়। তবে লিটন দাস এই বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেননি। তিনি শান্ত থেকে নিজের খেলায় মনোযোগ দিয়েছেন এবং এই মনোভাবই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাঁকে এমন একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয়, যিনি বিতর্ক এড়িয়ে মাঠের পারফরম্যান্সেই কথা বলেন।
রেকর্ড, অধিনায়কত্ব ও বিশ্বকাপের প্রত্যাশা
লিটন দাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংস আসে ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে, যেখানে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শতরান করেন। যদিও বাংলাদেশ সেই ম্যাচে হেরে যায়, তবুও তাঁর ইনিংসের জন্য তাঁকে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত করা হয়। মার্চ ২০২০-এ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে খেলা ১৭৬ রানের ইনিংস আজও বাংলাদেশের কোনও ব্যাটারের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এখন পর্যন্ত তিনি টেস্টে ৩,১১৭ রান, ওয়ানডেতে ২,৫৬৯ রান এবং টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২,৬৫৫ রান করেছেন। তিন ফরম্যাটেই তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তবে ২০২৫ সালে প্রথমবার তাঁকে টি২০ দলের পূর্ণকালীন অধিনায়ক করা হয়। টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ তাঁর কাছ থেকে শুধু নেতৃত্ব নয়, টপ অর্ডারে বড় ইনিংসেরও প্রত্যাশা থাকবে। পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসানের সঙ্গে লিটনকে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে, আর এখন দেখার বিষয় তিনি এই বড় মঞ্চে দলকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন।





