
বৈভব সূর্যবংশীর সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে হাজারো বলের গল্প, বাবার সংগ্রাম আর বোনের বিশ্বাস
Vaibhav Suryavanshi-র টিম ইন্ডিয়ায় পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে হাজারো বলের অনুশীলন, বাবার অসাধারণ ত্যাগ এবং পরিবারের অটুট সমর্থন। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও কোচের বিশ্বাসই তাঁকে অল্প বয়সে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারকায় পরিণত করেছে।
বিহারের সমস্তিপুর থেকে উঠে এসে টিম ইন্ডিয়া পর্যন্ত পৌঁছানো বৈভব সূর্যবংশী আজ সারা দেশে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরের জন্য টিম ইন্ডিয়ায় সুযোগ পাওয়ার পর সবাই জানতে চাইছেন, এত কম বয়সে বৈভব কীভাবে এই সাফল্য অর্জন করলেন। এর পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, বরং বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, পরিবারের ত্যাগ এবং দীর্ঘ সময়ের অনুশীলনের গল্প লুকিয়ে রয়েছে। বৈভবের কোচ মনীশ ওঝা তাঁর সাফল্যের সঙ্গে জড়িত এমন অনেক রহস্য তুলে ধরেছেন, যা যেকোনো তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
একটি শটের জন্য খেলেছেন হাজার বল
কোচ মনীশ ওঝার মতে, ছোটবেলা থেকেই বৈভব পুল শট, হুক শট এবং বড় এয়ারিয়াল শট খেলতে পছন্দ করতেন। তিনি এই শক্তিকে আরও উন্নত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর অ্যাকাডেমির বোলার এবং সঙ্গে আসা খেলোয়াড়দের একই ধরনের বল বারবার করতে বলা হতো। অনেক সময় একটি শটের জন্য 600 থেকে 1000 বল পর্যন্ত খেলানো হতো। এ কারণেই আজ বৈভব যেকোনো বোলারের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে বড় শট খেলতে পারেন। নিয়মিত অনুশীলন এই শটগুলোকে তাঁর অভ্যাস এবং শক্তি—দুটোই বানিয়ে দিয়েছে। কোচের মতে, এখন এই শটগুলো তাঁর খেলার স্বাভাবিক অংশ হয়ে গেছে।
বাবা নিয়েছিলেন বড় ঝুঁকি
বৈভবের সাফল্যের পেছনে তাঁর বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশীর সংগ্রামও কম নয়। কোভিডের সময় পরিস্থিতি কঠিন থাকলেও তিনি সপ্তাহে বহুবার সমস্তিপুর থেকে পাটনা নিয়ে যেতেন ছেলেকে। কোচের মতে, সেই সময় পরিবার আর্থিক চাপে ছিল এবং বাবার ওপর লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণও ছিল। তবুও তিনি কখনও বৈভবকে তা বুঝতে দেননি। তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল শুধু ছেলের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিকে। পরে আইপিএলে সুযোগ এবং সাফল্য পাওয়ার পর পরিবার ধীরে ধীরে সেই ঋণও শোধ করে দেয়। সেই ত্যাগের ফল আজ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
10 বছর বয়সেই মিলেছিল ইঙ্গিত
কোচ মনীশ ওঝা জানান, একবার 10 বছরের বৈভব বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি 93 বলে 118 রান করেছিলেন এবং একাধিক লম্বা ছক্কা মেরেছিলেন। সেদিন কোচ বৈভবের বাবাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অবশ্যই টিম ইন্ডিয়ার হয়ে খেলবে। যদিও তাঁরও আশা ছিল না যে এত কম বয়সেই বৈভব সিনিয়র দলে পৌঁছে যাবে। সেই ম্যাচের পর থেকেই বৈভবকে নিয়ে বিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছিল।
শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় শক্তি
কোচের মতে, বৈভব কখনও অনুশীলন থেকে ছুটি নেননি। তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটে পরিশ্রম করতেন এবং প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করতেন। মজার বিষয় হলো, বৈভব তাঁর বাবাকে খুব সম্মান করেন এবং তাঁর কথাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন। সেই শৃঙ্খলাই তাঁর খেলাতেও দেখা যায়। আজ টিম ইন্ডিয়ায় পৌঁছানোর পরও তাঁর লক্ষ্য শুধু শুরু করা নয়, বরং দীর্ঘ সময় দেশের হয়ে খেলা। বৈভবের গল্প প্রমাণ করে যে স্বপ্ন তখনই পূরণ হয়, যখন তার পেছনে থাকে কঠোর পরিশ্রম, পরিবারের সমর্থন এবং সবসময় শেখার ক্ষুধা।





