Cricket

১৫ ছক্কা, ১৯০ রান… মাঠে নামল ১৪ বছরের ঝড়, কে এই বৈভব?

বিজয় হাজারে ট্রফিতে ১৪ বছরের বৈভব সূর্যবংশী ১৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্ব কাঁপালেন। ৩৬ বলে শতরান, ১৫ ছক্কায় ভাঙল একাধিক রেকর্ড, জন্ম নিল এক নতুন সুপারস্টার।

শীতের আবহাওয়ায় যখন বোলাররা সুইংয়ের আশা করছিল, ঠিক তখনই মাঠে এমন এক ববন্ডর উঠল যে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া কেঁপে উঠল। বিহারের লাল বৈভব সূর্যবংশী ক্রীজে পা রাখতেই কেউ ভাবেনি যে আজ ইতিহাস লেখা হবে। অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে বিজয় হাজারে ট্রফির এই ম্যাচে বৈভব শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন, আজ শুধু রান নয়, হবে ধ্বংসযজ্ঞ। প্রতি ওভারে চার-ছয়ের বৃষ্টি শুরু হয় এবং স্টেডিয়ামে বসে থাকা দর্শকরা একের পর এক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। এটা শুধু একটা ইনিংস নয়, বরং ক্রিকেট বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা—এক নতুন নাম এসে গেছে।

৩৬ বলে শতরান, বোলারদের ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস

প্রথমে অর্ধশতক, তারপর মাত্র ৩৬ বলে শতরান… বৈভব সূর্যবংশী এমন কিছু করে দেখান, যা বড় বড় নামও খুব কমই পারেন। বোলাররা লাইন-লেন্থ ভুলে যান, ফিল্ডাররা শুধু বল গ্যালারিতে যেতে দেখেই যান। প্রতিটি শটে ছিল শক্তি আর নিখুঁত টাইমিং। শতরানের পরও বৈভব থামেননি। তিনি বোলারদের বাকি সাহসটুকুও কেড়ে নেন এবং একের পর এক বড় শট খেলতে থাকেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন, কারণ কোনও কৌশলই আর কাজ করছিল না।

১৯০ রানের ইনিংস, ভাঙল একের পর এক রেকর্ড
৮৪ বলে ১৯০ রান… ১৫ ছক্কা আর ১৬ চার। এই ইনিংসে বৈভবের স্ট্রাইক রেট ছিল ২২৬-এরও বেশি। এখানে শুধু রানই আসেনি, সঙ্গে ভেঙেছে একের পর এক রেকর্ড। এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডের সমতা, লিস্ট এ ক্রিকেটে দ্রুততম ১৫০ রানের কীর্তি এবং এবি ডিভিলিয়ার্সের প্রায় দশ বছর পুরনো রেকর্ডও চুরমার। ১৯০ রানের মধ্যে ১৫৪ রানই এসেছে বাউন্ড্রি থেকে, যা এই তাণ্ডবের আসল গল্প বলে। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে তিনি মাত্র ১০ রান দূরে থেমে যান, কিন্তু ততক্ষণে ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে।

সবচেয়ে কম বয়সে শতরান, এবার সিনিয়র দলে ডাক কবে?

ইতিহাস এখানেই থামেনি। বৈভব সূর্যবংশী লিস্ট এ ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে শতরান করা ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন। শতরানের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর ২৭২ দিন। ২০২৫ সালে এটি তাঁর সপ্তম শতরান। ১২ বছর বয়সে রঞ্জি ডেবিউ, অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি, আইপিএলে সবচেয়ে কম বয়সে শতরান—প্রতিটি মঞ্চেই বৈভব নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখন প্রশ্ন শুধু একটাই, ভারতীয় সিনিয়র দলের দরজা আর কতদিন বন্ধ থাকবে? কারণ এটা আর শুধু কড়া নাড়া নয়, একেবারে বিস্ফোরক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button