Cricket

এবার উইকেট পড়লেই থামবে না খেলা, টেস্ট ক্রিকেটে বড় বদল, মহিলা ক্রিকেটের বলও বদলাল, 2026 থেকে দেখা যাবে নতুন রোমাঞ্চ!

২০২৬ থেকে টেস্ট ক্রিকেটে বড় বদল আনছে এমসিসি। শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা থামবে না। পাশাপাশি মহিলা ও জুনিয়র ক্রিকেটে বলের ওজন–আকার বদলানো হচ্ছে, বাড়বে রোমাঞ্চ ও নিরাপত্তা।

ক্রিকেটের নিয়ম নির্ধারণকারী সংস্থা এমসিসি 2026 থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন আইনগুলোর ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আলোচিত পরিবর্তনটি টেস্ট ক্রিকেটকে ঘিরে। এখন দিনের শেষ ওভারে যদি কোনও উইকেট পড়ে, তাহলে সেখানেই খেলা থামানো হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী শেষ ওভার সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত খেলা চলবে। আগে উইকেট পড়লেই দিনের খেলা শেষ বলে ধরা হতো, ফলে ব্যাটিং করা দল কিছুটা স্বস্তি পেত। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা আর থাকবে না এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বজায় থাকবে।

ফিল্ডিং দলের সরাসরি লাভ

এমসিসির আইন 12.5.2 অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য টেস্ট ক্রিকেটে রোমাঞ্চ বাড়ানো। এখন শেষ ওভারে উইকেট পড়লে নতুন ব্যাটার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামবে এবং তাকে ওই ওভারের বাকি বলগুলো খেলতেই হবে। এতে বোলিং ও ফিল্ডিং করা দল চাপ তৈরি করার বড় সুযোগ পাবে। আগে ব্যাটিং দল কৌশল সাজিয়ে পরের দিন নতুন খেলোয়াড় নামাত, ফলে ফিল্ডিং দলের মোমেন্টাম ভেঙে যেত। এখন সেই নিয়ম না থাকায় ব্যাটিং দল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, বিশেষ করে যখন শেষ ওভারে নতুন ব্যাটার ক্রিজে আসে।

মহিলা ক্রিকেটের বলের বড় পরিবর্তন

এমসিসির নতুন নিয়মে মহিলা ক্রিকেট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন মহিলা ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের ওজন ও আকার-দুটোই বদলানো হচ্ছে। আগে বলের ওজন ছিল 140 থেকে 151 গ্রাম এবং আকার 21 থেকে 22.5 সেন্টিমিটার। নতুন নিয়মে বলের ওজন হবে 140 থেকে 149 গ্রাম এবং আকার 21.5 থেকে 22 সেন্টিমিটার। এর উদ্দেশ্য বল ও খেলাধুলার মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি করা। বল বেশি ভারী বা বড় হলে খেলোয়াড়দের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, এতে চোটের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

জুনিয়র ক্রিকেটেও প্রভাব, খেলা হবে আরও নিরাপদ

মহিলা ক্রিকেটের পাশাপাশি জুনিয়র ক্রিকেট, অর্থাৎ অনূর্ধ্ব 13 বিভাগেও বলের নিয়ম বদলানো হয়েছে। আগে অনূর্ধ্ব 13-এ বলের ওজন ছিল 133 থেকে 144 গ্রাম এবং আকার 20.5 থেকে 22 সেন্টিমিটার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন ওজন হবে 140 থেকে 144 গ্রাম এবং আকার 20.5 থেকে 21 সেন্টিমিটার। এতে তরুণ খেলোয়াড়রা খেলতে গিয়ে ভালো নিয়ন্ত্রণ পাবে এবং চোটের ঝুঁকি কমবে। মোটের ওপর এমসিসির এই নতুন নিয়মগুলো টেস্ট ক্রিকেটে রোমাঞ্চ বাড়ানো এবং মহিলা ও জুনিয়র ক্রিকেটকে আরও নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ করার দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button