
দু’বার খালি হাতে, তৃতীয়বার ভাগ্য ঘুরে গেল, তেজস্বী দাহিয়ার অবহেলা থেকে নিলাম নায়ক হওয়ার অজানা গল্প
দু’বার আইপিএল নিলামে আনসোল্ড থাকার পর তেজস্বী দাহিয়া তৃতীয় চেষ্টায় বাজিমাত করেন। IPL 2026 মিনি নিলামে KKR তাঁকে ৩ কোটিতে দলে নেয়। গুরুকুল ট্রেনিং, ছক্কার ঝড় ও মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে নিলাম নায়ক বানাল।
গত আইপিএল নিলামে যখন তেজস্বী দাহিয়ার নাম দু’বার ডাকা হয়েছিল এবং কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি হাত তোলে না, সেই মুহূর্তটা ছিল তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়। দিল্লির এই উইকেটকিপার ব্যাটার মনে করেছিলেন, হয়তো এখানেই স্বপ্ন ভেঙে যাবে। কিন্তু আইপিএল ২০২৬-এর মিনি নিলাম পুরো গল্পটাই বদলে দিল। এবার কলকাতা নাইট রাইডার্স তেজস্বীর উপর ভরসা রেখে তাঁকে ৩০ লাখের বেস প্রাইস থেকে সরাসরি ৩ কোটি টাকায় তুলে নিল। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে দীর্ঘ বিডিংয়ের পর কেকেআর বাজি মারে। এক বছর আগে হতাশ হয়ে বসে থাকা এই ক্রিকেটার এখন আইপিএলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত।
গুরুকুলের কঠোর ট্রেনিং বদলে দিল দিশা
তেজস্বীর এই প্রত্যাবর্তনের পিছনে তাঁর কোচ ও দ্রোণাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত সঞ্জয় ভারদ্বাজের বড় ভূমিকা রয়েছে। আনসোল্ড থাকার পর তেজস্বী ভোপালের কাছে জঙ্গলে তৈরি গুরুকুল ট্রেনিং ক্যাম্পে যান। এখানে জীবন ছিল একেবারেই আলাদা। মোবাইল ফোন জমা রাখতে হত এবং সারাদিন শুধুই ট্রেনিং ও শৃঙ্খলা মেনে চলা। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্যও নির্দিষ্ট সময় ছিল। সকালে ফিটনেস, দিনে ব্যাটিং আর সন্ধ্যায় উইকেটকিপিংয়ের কঠোর অনুশীলন চলত। তেজস্বীর মতে, এই কঠিন রুটিনই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে এবং খেলাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
ছক্কার ঝড়েই তৈরি হল পরিচয়
দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে তেজস্বী দাহিয়া তাঁর ব্যাট দিয়ে আসল পরিচয় তৈরি করেন। এই টুর্নামেন্টে তিনি ১৯০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৩৩৯ রান করেন এবং সর্বোচ্চ ২৯টি ছক্কা মেরে সবাইকে চমকে দেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে নির্ভীকতা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা স্পষ্ট ছিল। কোচ সঞ্জয় ভারদ্বাজ বলেন, তেজস্বীকে প্রথমবার খেলতে দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল, এই ক্রিকেটার বড় মঞ্চের জন্যই তৈরি। শুধু ব্যাটিং নয়, উইকেটকিপিং ও ম্যাচ বোঝার ক্ষমতাতেও তেজস্বী দারুণ উন্নতি দেখিয়েছেন। এটাই ছিল আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজর শেষ পর্যন্ত তাঁর দিকে যাওয়ার বড় কারণ।
শিক্ষক পরিবারের ছেলে থেকে আইপিএল স্বপ্ন
তেজস্বী দাহিয়া এক সাধারণ শিক্ষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর বাবা গণিত পড়ান এবং মা অর্থনীতির শিক্ষিকা। পরিবারে পড়াশোনাকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তেজস্বীর স্বপ্ন ছিল ক্রিকেট। আজও তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর বাবা-মা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে তিনি আইপিএল ক্রিকেটার হয়ে গেছেন। বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, এমএস ধোনি ও বিরাট কোহলি তাঁর আদর্শ। এখন কেকেআরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তেজস্বীর ইচ্ছা, ঠিক সেই আবেগ ও জেদ নিয়ে খেলা, যেমন একসময় গৌতম গম্ভীর খেলতেন। তাঁর কথায় স্পষ্ট—দিল্লির খেলোয়াড়রা কখনও হার মানে না।





