
ইংল্যান্ডে কেন ব্যর্থ হলো টিম ইন্ডিয়া? ৮ খেলোয়াড়ের প্রথম সফর নাকি খারাপ পারফরম্যান্সই সিরিজ হারের কারণ
ইংল্যান্ডে টি-২০ সিরিজে টিম ইন্ডিয়ার ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্স। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, অলরাউন্ডারদের নিষ্প্রভ ভূমিকা এবং বোলিংয়ের দুর্বলতাই সিরিজ হারের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শুধু অভিজ্ঞতার অভাব নয়।
শ্রেয়স আইয়ারের অধিনায়কত্বে টিম ইন্ডিয়া ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ হেরে গেছে। সিরিজে ভারতকে ব্যাটিং, বোলিং এবং দলগত সমন্বয়—তিনটি ক্ষেত্রেই লড়াই করতে হয়েছে। এই সফরে অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, শিবম দুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, প্রিন্স যাদব এবং সঞ্জু স্যামসনের মতো একাধিক খেলোয়াড় প্রথমবার ইংল্যান্ডে টি-২০ ক্রিকেট খেলেছেন। তবে শুধু এই কারণকেই হারের জন্য দায়ী করা যায় না, কারণ তাঁদের মধ্যে অনেকেই এর আগে ইংল্যান্ডে ঘরোয়া বা অন্য স্তরের ক্রিকেট খেলেছেন।
টপ অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল
টিম ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল শুরুর ব্যাটিং। অভিষেক শর্মা প্রথম ম্যাচের পর আর ছন্দে ছিলেন না, অন্যদিকে বৈভব সূর্যবংশী টানা ১৪, ১৩ এবং ১৫ রান করে আউট হন। ঈশান কিশানও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার চতুর্থ ম্যাচে অপরাজিত ৮০ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি। সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মার ব্যাটও পুরো সিরিজে নীরব ছিল, যার ফলে মিডল অর্ডার ধারাবাহিকভাবে চাপে পড়ে যায়।
অলরাউন্ডার এবং বোলাররাও চলেননি
শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল এবং অন্যান্য অলরাউন্ডাররাও কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। অক্ষর ব্যাট এবং বল—দুই ক্ষেত্রেই সংগ্রাম করতে দেখা গেছে। বোলিংয়েও দলের পরিকল্পনা সফল হয়নি। রবি বিষ্ণোই খরুচে প্রমাণিত হন, বরুণ চক্রবর্তী উইকেট তুলতে পারেননি এবং প্রিন্স যাদবকে শুরুর ম্যাচগুলোতে সুযোগই দেওয়া হয়নি। অর্শদীপ সিং কিছু উইকেট পেলেও অন্য বোলারদের কাছ থেকে তিনি যথেষ্ট সমর্থন পাননি।
হারের আসল কারণ কী ছিল?
ইংল্যান্ডের পরিস্থিতি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার হারের সবচেয়ে বড় কারণ অভিজ্ঞতার অভাব নয়, বরং ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্স। ব্যাটাররা ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি, মিডল অর্ডার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বোলাররাও প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেননি। এখন শেষ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়া সম্মান বাঁচানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে, আর সিরিজ শেষে দল পরিচালনা এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।





