Cricket

ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে সরে গিয়ে কি ফেঁসে গেল পাকিস্তান? রশিদ লতিফের বক্তব্যে তোলপাড়, সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারে, নইলে ভুগতে হবে বড় ক্ষতি

ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করে বড় সংকটে পাকিস্তান। রশিদ লতিফের বক্তব্যে ইঙ্গিত, সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে পিসিবি। না হলে টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ 2026-এ আর্থিক ও কূটনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল।

টি20 ওয়ার্ল্ড কাপ 2026-এর আগে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর ভক্ত থেকে ব্রডকাস্টার সবাই অবাক। আইসিসিও কড়া অবস্থান নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করেছে যে, পাকিস্তান যদি পিছু না হটে, তাহলে তাকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। এর মধ্যেই পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক রশিদ লতিফের বক্তব্য আলোচনায় এসেছে।

রশিদ লতিফ কেন সিদ্ধান্ত পাল্টানোর আশা প্রকাশ করলেন

রশিদ লতিফ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে বলেন, পাকিস্তান নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পাকিস্তানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বারবার বদলানো হয়েছে। লতিফের কথায়, “আমাদের এখানেই তো সমস্যা। পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারে। হতে পারে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে। আগামী 24 ঘণ্টায় কিছুই হতে পারে।” তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত নয়।

পর্দার আড়ালে কি চলছে আলোচনা

লতিফের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরকার পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। তার দাবি, এ ধরনের বিষয়ে প্রায়ই পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা হয়। সেই কারণেই পাকিস্তানের এই অবস্থান পুরোপুরি স্থায়ী বলে মনে হচ্ছে না। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এত বড় টুর্নামেন্টে ভারত-পাক ম্যাচ থেকে সরে যাওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়।

পিসিবি চিফকে ঘিরে উঠছে প্রশ্ন

এই পুরো বিতর্কে পিসিবি চিফ মহসিন নকভির ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে তিনি দেশের ভেতরে রাজনৈতিক লাভ পাচ্ছেন। টি20 ওয়ার্ল্ড কাপের মতো বড় মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান দেখিয়ে পাকিস্তানে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর প্রভাব পাকিস্তানের জন্য উল্টো হতে পারে।

ভারতের সঙ্গে না খেললে কতটা ক্ষতি হবে

যদি পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে সবার আগে আর্থিক ধাক্কা আসবে। আইসিসি ইভেন্ট থেকে পাওয়া কোটি কোটি টাকার আয়ে প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বার্ষিক রাজস্ব ভাগও আটকে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকেও বাদ দেওয়া হতে পারে এবং 2028 টি20 ওয়ার্ল্ড কাপের আয়োজকত্বও কেড়ে নেওয়া যেতে পারে।

ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকট

ক্ষতি এখানেই শেষ নয়। পাকিস্তানকে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট থেকে সাসপেন্ড করা হতে পারে। বিদেশি বোর্ডগুলো তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএল খেলতে এনওসি দিতে অস্বীকার করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎই সংকটের মুখে পড়তে পারে। এখন বড় প্রশ্ন একটাই পাকিস্তান কি এত বড় ক্ষতির ঝুঁকি নেবে, নাকি রশিদ লতিফের কথা সত্যি প্রমাণিত হবে এবং শেষ মুহূর্তে তারা সিদ্ধান্ত বদলাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button