
বাংলাদেশের স্বপ্ন ভাঙল, জন্মদিনে ইতিহাস গড়া হল না মুশফিকুর রহিমের
Mushfiqur Rahim জন্মদিনের টেস্টে 71 রান করে আউট হয়ে শতরানের ইতিহাস গড়া থেকে বঞ্চিত হলেন। Bangladesh national cricket team-এর অভিজ্ঞ ব্যাটার মাত্র 29 রান দূরে থেমে যান।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এমন এক মুহূর্ত দেখা গেল যা পুরো স্টেডিয়ামকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিম নিজের 39তম জন্মদিনে মাঠে নেমেছিলেন এবং সবাই আশা করছিলেন বিশেষ এই দিনটিকে তিনি ঐতিহাসিক করে তুলবেন। ম্যাচের আগে মাঠেই বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা তাঁর জন্মদিন উদযাপন করেন এবং সমর্থকরাও তাঁকে শতরান করতে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভাগ্য তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি।
ইতিহাস থেকে 29 রান দূরে থামলেন
দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের বোলারদের চাপে রাখেন। অসাধারণ ধৈর্য নিয়ে ইনিংস গড়েন এবং একের পর এক সুন্দর ড্রাইভ ও কাট শটে রান তুলতে থাকেন। ধীরে ধীরে তিনি শতকের দিকে এগোচ্ছিলেন আর পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু শতক থেকে মাত্র 29 রান দূরে থাকতেই শাহিন শাহ আফ্রিদির একটি দ্রুতগতির বল তাঁর ডিফেন্স ভেঙে দেয় এবং তিনি বোল্ড হয়ে ফিরে যান। মুশফিকুর 71 রান করে আউট হন।
বাংলাদেশের বড় রেকর্ড অল্পের জন্য হাতছাড়া
যদি মুশফিকুর রহিম জন্মদিনে শতরান পূর্ণ করতে পারতেন, তাহলে তিনি টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে জন্মদিনে শতরান করা মাত্র 12তম ব্যাটার হতেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবেও এই কীর্তি গড়তেন তিনি। এর আগে শেষবার 2018 সালে শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস জন্মদিনে টেস্ট শতরান করেছিলেন। সেই কারণেই মুশফিকুর আউট হওয়ার পর মিরপুর স্টেডিয়ামে হতাশা স্পষ্ট দেখা যায়।
এশিয়ার কিংবদন্তিদের তালিকায় মুশফিকুর
এই টেস্টের প্রথম দিনেই মুশফিকুর রহিম আরেকটি বড় রেকর্ড গড়েছিলেন। মাঠে নামতেই তিনি এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম টেস্ট ক্যারিয়ারের ক্রিকেটার হয়ে যান। 2005 সালে লর্ডসে টেস্ট অভিষেক করা মুশফিকুর গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় মুখ। তাঁর অধিনায়কত্ব এবং ব্যাটিং বাংলাদেশকে বহু স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে।
এমনই তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার
মুশফিকুর রহিমের টেস্ট ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখন পর্যন্ত তিনি 101টি টেস্ট ম্যাচের 185 ইনিংসে 6581 রান করেছেন। তাঁর ব্যাটিং গড় প্রায় 39 এবং সর্বোচ্চ স্কোর 219 অপরাজিত। তিনি 13টি টেস্ট শতরান এবং 29টি অর্ধশতক করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের একমাত্র উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি। ধারাবাহিকতা এবং লড়াইয়ের মানসিকতা তাঁকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস
যদিও জন্মদিনে শতরান হাতছাড়া হয়েছে, তবুও মুশফিকুরের এই ইনিংস বাংলাদেশকে শক্ত জায়গায় পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোমিনুল হকের সঙ্গে বড় জুটি গড়ে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যান। এই ইনিংস হয়তো রেকর্ডবুকে শতরান হিসেবে লেখা থাকবে না, কিন্তু মিরপুরে উপস্থিত দর্শকরা দীর্ঘদিন এই লড়াকু ও স্মরণীয় ইনিংস ভুলতে পারবেন না।





