
মুশফিকুর রহীমের ১০০তম টেস্টে ক্রিকেট দুনিয়ার আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া, কে কী বললেন?
মুশফিকুর রহীমের ১০০তম টেস্ট ঘিরে ক্রিকেট দুনিয়ায় চলছে প্রশংসার ঝড়। তামিম, মোমিনুল, হাথুরুসিংহে থেকে শুরু করে ডেভ হোয়াটমোর সবাই তাঁর শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও নিবেদনকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে ভরসার মুখগুলোর একটি মুশফিকুর রহীম তাঁর ১০০তম টেস্ট ম্যাচ খেলছেন, আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে ক্রিকেট মহলে। সতীর্থ তামিম ইকবাল বলেছেন, এই মাইলফলক শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং মুশফিকের দীর্ঘ পথচলা, শৃঙ্খলা ও অসাধারণ ফিটনেসের প্রতিফলন। তামিম আরও বলেন, অনেককে বড় ইনিংস খেলার পর ক্লান্ত হতে দেখেছি, কিন্তু মুশফিককে কখনো ক্লান্ত হতে দেখিনি। তাঁর আগ্রহ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত একই রকম থাকবে। মোমিনুল হক মুশফিকের পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাকে ‘অলৌকিক’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ২০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এমন মান বজায় রাখা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।
তিন মাস পরের সিরিজের প্রস্তুতিও এখন থেকেই
মোমিনুল আরও জানান, মুশফিক খুব শান্ত, সংগঠিত এবং আগেভাগে পরিকল্পনা করা ক্রিকেটার। তাঁর মতে, মুশফিক তিন মাস পরের সিরিজের প্রস্তুতিও এখন থেকেই শুরু করে দেন। “তিনি জানেন কী করতে হবে। ছোট ছোট বিষয়েও তাঁর নজর অসাধারণ।” সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর, যিনি ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোচিং দিয়েছেন, তিনিও মুশফিকের প্রশংসায় বলেন, তিনি সবসময় নিজেকে আরও ভালো করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বিখ্যাত স্লগ-সুইপ আজও বিশ্বজুড়ে আলোচিত। হোয়াটমোরের মতে, চোট, চাপ এবং ওঠা-নামার মধ্যেও দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রাখা প্রমাণ করে যে মুশফিক দেশটির অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।
মুশফিকের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশংসায় সাবেক কোচ হাথুরুসিংহে
সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেন, মুশফিক শুধু ভালো ব্যাটারই নন, বরং দলের সাংস্কৃতিক ভিত্তি। তিনি বলেন, ঘরোয়া বা বিদেশি কন্ডিশন-যেখানেই হোক, মুশফিক সবসময় সবার আগে এসে পরিস্থিতি বুঝতেন এবং প্রতিটি সেশন খুব লক্ষ্য রেখে করতেন। “তিনি কথায় নয়, খেলায় নেতৃত্ব দেন।” হাথুরুসিংহের মতে, এই ১০০তম টেস্ট শুধু একটি মাইলফলক নয়, বরং এমন একজন ক্রিকেটারের উদযাপন যিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশেষ পরিচয় দিয়েছেন।
‘মি. ক্রিকেট’ উপাধি পেলেন মুশফিক
বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মুশফিককে ‘মি. ক্রিকেট’ এবং ‘বাংলাদেশের মাইক হাসি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটা বিশাল অর্জন। কারণ বাংলাদেশ এত বেশি টেস্ট খেলে না। তবুও এতদিন ধরে আগ্রহ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সত্যিই অনন্য।” বাশার আরও বলেন, মুশফিকের নিবেদন ও পরিশ্রম আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে মুশফিক আরও বহু বছর বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলবেন।





