
Bangladesh-এর লিটন দাসের দাপট, মিরপুরে শতকের সাথে গড়লেন ৩ বড় রেকর্ড, দিগ্গজদের ক্লাবে প্রবেশ
লিটন দাস মিরপুর টেস্টে দুর্দান্ত ১২৮ রান করে তিনটি বড় রেকর্ড গড়লেন। এটি তার ৫ম টেস্ট শতক এবং মুশফিকের সঙ্গে সপ্তম শতরান জুটি। এই ইনিংস তাকে বাংলাদেশের টেস্ট দিগ্গজদের তালিকায় আরও উপরে তুলল।
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যান লিটন দাস এমন ঝড় তুললেন যে আয়ারল্যান্ডের দল সামলেই উঠতে পারল না। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে যেখানে পুরো খেলা বাংলাদেশের নামে ছিল, সেখানে আসল শো দেখালেন লিটন দাস। দল ৪৩৩/৫-এর স্কোরে ছিল এবং মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ৫০০ পার করবে, কিন্তু অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ইনিংসকে কিছুটা ঝাঁকুনি দেন। এই সবের মাঝে লিটন দাসই ছিলেন, যিনি ১৯২ বলে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ১২৮ রান তুললেন এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করলেন। তার ব্যাটিংয়ে ৮টি চার এবং ৪টি ছক্কা ছিল। মিরপুরের উইকেটে তার শটগুলো এমন লাগছিল যেন বোলারদের ওপর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তার শতরান জুটি আয়ারল্যান্ডকে পুরোপুরি ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
দলের জন্য হলেন ‘সংকটমোচন’
লিটন দাসের শতকের বিশেষ দিক ছিল-এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫ম শতক, যা তাকে বাংলাদেশের টেস্ট দিগ্গজদের তালিকায় এক নতুন স্তরে পৌঁছে দিল। এই শতকের সাথে তিনি দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট শতক করা যৌথভাবে ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন। দিগ্গজ মোমিনুল হক এবং মুশফিকুর রহিম যেখানে ১৩-১৩টি শতক করে শীর্ষে আছেন, সেখানে লিটন দ্রুতই সেই ক্লাবের দিকে এগোচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার এই ইনিংস এমন সময়ে এল যখন দলের একটি বড় জুটির খুব প্রয়োজন ছিল। রহিম এবং দাসের এই ৭ম শতরান জুটি বাংলাদেশের কোনো জুটির সর্বাধিক শতরান জুটির রেকর্ডও। এখন এই জুটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জুটি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
রেড-বল ক্রিকেটেও বাংলাদেশের মেরুদণ্ড
লিটন দাস মিরপুর টেস্টে শুধু শতকই করলেন না, বরং তার ক্যারিয়ারের তিনটি বড় রেকর্ডও সম্পূর্ণ করলেন। প্রথমত-তিনি বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান পূরণ করা ৫ম দ্রুততম ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন। ২০১৫ থেকে এখন পর্যন্ত খেলা ৫২ টেস্টে তিনি ৩১১৭ রান করেছেন, যা জানায় যে তিনি শুধু লিমিটেড-ওভার নয়, রেড-বল ক্রিকেটেও বাংলাদেশের মেরুদণ্ড। দ্বিতীয় রেকর্ড-টেস্টে ৫টি শতক পূর্ণ করে তিনি সেই বিশেষ তালিকায় ঢুকে পড়লেন, যেখানে দেশের নির্বাচিত কয়েকজনই পৌঁছাতে পেরেছেন। তৃতীয় রেকর্ড-রহিমের সঙ্গে তার ৭ম শতরান জুটি, যা তাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল টেস্ট জুটি বানাল। অর্থাৎ, দাস এখন শুধু একজন ব্যাটসম্যান নন, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠছেন।
একতরফা ম্যাচের মতো পরিস্থিতি
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ যাই হোক বাংলাদেশের জন্য একতরফা লড়াইয়ের মতোই প্রমাণিত হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের দল ৯৮/৫-এ থেমে আছে এবং এখনও ৩৭৮ রান পিছিয়ে। অন্যদিকে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, হাসান মুরাদ এবং মিরাজের মতো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ম্যাচকে প্রায় একতরফা বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প লিটন দাসই-তার ক্লাসিক টাইমিং, দুর্দান্ত প্লেসমেন্ট এবং রেড-বলে ক্রমাগত উন্নতি এই প্রমাণ দেয় যে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আসল দায়িত্ব তার হাতেই উঠতে পারে। মিরপুরে করা এই শতক শুধু রান নয়, বরং একটি ঘোষণা-লিটন দাস এখন দিগ্গজদের ক্লাবে আনুষ্ঠানিক প্রবেশ করে ফেলেছেন।





