
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটে ‘চড়াচড়ির’ ঝড়! জাহানারার অভিযোগে তোলপাড়, অধিনায়ক নিগার সুলতানা নীরব-দলেই কি বড় বিভাজন?
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটে তোলপাড়! জাহানারা আলমের চড়ের অভিযোগে অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধছে। বিসিবি অভিযোগ অস্বীকার করেছে, কিন্তু নিগারের নীরবতা জল্পনা বাড়াচ্ছে—দলের ভেতরে বিভাজন কি সত্যিই গভীর হচ্ছে?
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল এখন বড় এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। দলের অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি–র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি ঝড় তুলেছেন। জাহানারার দাবি, দলে জুনিয়র খেলোয়াড়দের বকা নয়-সরাসরি চড় মারা হয়। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ চলাকালীন বহু জুনিয়র তার কাছে কেঁদে বলেছে-আপা, ভুল করব না… না হলে আবার চড় পড়বে. এমনকি জাহানারা দাবি করেন, দুবাই সফরে নিগার সুলতানা নাকি এক জুনিয়রকে ঘরে ডেকে চড় মেরেছিলেন। তার এই অভিযোগ বাংলাদেশ ক্রিকেটে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
মানসিক চাপে ‘টক্সিক’ হয়ে গেছে ড্রেসিং রুম
জাহানারা শুধু চড়ের অভিযোগই তুলেননি, দলের পুরো পরিবেশকেই টক্সিক বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, ২০২৪ টি–২০ বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি গভীর মানসিক সংকটে পড়েছিলেন-যার মূল কারণ দলের ভেতরের চাপ। জাহানারার মতে, দুই-একজন খেলোয়াড় বিশেষ সুবিধা পায়, অন্যদের সম্পূর্ণ অবহেলা করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে দলের প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়ই কোনো না কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালের পর থেকেই সিনিয়রদের একে একে বাদ দেওয়ার “সাইলেন্ট পলিসি” চালু হয়েছে-যার শিকার তিনিও হয়েছেন.
বিসিবি বলল-সব অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন
জাহানারার দাবি সামনে আসার পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) সব অভিযোগকে মিথ্যে, বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে দল যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করছে, তখন এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত হতাশাজনক। বোর্ডের দাবি, অধিনায়ক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে অব্যবহার বা হাতে তোলার কোনো প্রমাণ নেই। একইসঙ্গে বোর্ড ইঙ্গিত দেয়- জাহানারার এখন দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তাই তার এই বক্তব্য বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া আর কিছু নয়. বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে—কোনো তদন্তের প্রয়োজন নেই, দল একজোট এবং পেশাদারভাবেই চলছে.
নিগার সুলতানার নীরবতা বাড়াচ্ছে জল্পনা
সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো-এত বড় ঝড় ওঠার পরও অধিনায়ক নিগার সুলতানা এখন পর্যন্ত একটিও শব্দ উচ্চারণ করেননি। তার নীরবতা বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করছে। অনেকের মতে এটি শুধু দুই খেলোয়াড়ের বিরোধ নয়-বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের ভেতরে বহুদিন ধরে চলা বিভাজনেরই প্রতিফলন। প্রশ্ন উঠছে-দল কি দুই ভাগে ভেঙে গেছে? জুনিয়ররা কি সত্যিই ভীত পরিবেশে খেলছে? আর বিসিবি কি পুরো ব্যাপারটি চাপা দিতে চাইছে? ফিলহাল গোটা ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধাক্কা লেগেছে, আর ক্রিকেটবিশ্ব তাকিয়ে আছে—নিগার কিংবা বোর্ড এখন কী পদক্ষেপ নেয়.





