Cricket

জাহানারা আলমের অভিযোগে কাঁপল বাংলাদেশ ক্রিকেট, বিসিবি বলল- জিরো টলারেন্স, কেউ রেহাই পাবে না

জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগে কাঁপছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন—“জিরো টলারেন্স” নীতি নেওয়া হয়েছে, দোষী যেই হোক রেহাই নেই। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, কর্মকর্তাদের OSD করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় পেসার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগে কড়া অবস্থান নিয়েছে। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই মামলায় “জিরো টলারেন্স” নেওয়া হবে এবং দোষী যারাই হোক ডিরেক্টর, কোচ বা স্টাফ কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। বিতর্ক তখন তীব্র হয় যখন জাহানারা এক সাক্ষাৎকারে সাবেক সিলেক্টর ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে ২০২২ নারী বিশ্বকাপ চলাকালীন অশোভন আচরণের অভিযোগ করেন। জাহানারার দাবি, মঞ্জুরুল তাকে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন এবং ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছিল। তিনি আরও জানান, অনেক নারী ক্রিকেটারই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে কথা বলেন না।

সাবেক খেলোয়াড়রাও জানালেন অভিজ্ঞতা !
জাহানারার এই প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারও একই ধরনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, এর পরই বিসিবি দ্রুত তদন্ত শুরু করে। বোর্ড অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যেখানে বোর্ড পরিচালক রুবাবা ডাওলা এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সরওয়াত সিরাজ শুকলা আছেন। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নারী দলের সঙ্গে যুক্ত চার কর্মকর্তা-ম্যানেজার এস.এম. ফাইয়াজ, ফিজিও সুরাইয়া আখতার, কোচ মাহমুদ ইমন এবং কো-অর্ডিনেটর সারফরাজ বাবুকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ দায়িত্বে (OSD) পাঠানো হয়েছে।

বিসিবি সভাপতির বড় বক্তব্য !
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন যে বোর্ডে কোনো পদই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীও কোনো নিয়মের বাইরে না থাকেন, তাহলে আমরা পরিচালকরা কীভাবে হতে পারি? প্রেস কনফারেন্সে বোর্ডের ফ্যাসিলিটিজ ডিরেক্টর শানিয়ান তানিমও নিশ্চিত করেন যে তদন্ত হবে নিরপেক্ষ এবং কমিটি যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সুপারিশ করলে তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হবে। বোর্ড জানিয়েছে যে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বললেন মঞ্জুরুল
যদিও অভিযুক্ত মঞ্জুরুল আলম সমস্ত অভিযোগকে মিথ্যা এবং মনগড়া বলেছেন, তবুও এই মামলা বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞ ও ক্রিকেট মহল বলছে, নারী ক্রিকেটে সিস্টেম সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এটাই সঠিক সময়। এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির রিপোর্টে, যা ঠিক করবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট কোন পথে এগোবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button