Cricket

2009 সালের সেই আতঙ্ক কি আবার ফিরছে? ইসলামাবাদ বিস্ফোরণের পর শ্রীলঙ্কা দলে চরম দুশ্চিন্তা, পুরনো ঘটনা যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠল

ইসলামাবাদ বিস্ফোরণের পর শ্রীলঙ্কা দলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০০৯ লাহোর হামলার স্মৃতি ক্রিকেটারদের আবার তাড়া করছে। রাওয়ালপিন্ডির কাছে বিস্ফোরণ হওয়ায় অনেকেই দেশে ফিরতে চাইছেন, তবে বোর্ড আশ্বাস দিয়ে খেলোয়াড় ধরে রেখেছে।

ইসলামাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানীতে হওয়া এই বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। রাওয়ালপিন্ডির কাছেই এই ঘটনা ঘটায় শ্রীলঙ্কান দলের ভেতরে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার চলমান ওয়ানডে সিরিজ মাঝপথে ছেড়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। যদিও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (SLC) খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে সতর্ক করেছে যে—সিরিজ ছেড়ে দেশে ফিরলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতি ১৬ বছর আগের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার কথা সবাইকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, যখন ক্রিকেট দুনিয়া কেঁপে উঠেছিল।

২০০৯ সালের লাহোর হামলার স্মৃতি আবার ফিরে এলো
২০০৯ সালে পাকিস্তানের মাটিতেই শ্রীলঙ্কান দল ভয়ঙ্কর হামলার শিকার হয়েছিল। তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান সফরে এসেছিল শ্রীলঙ্কা দল। ৩ মার্চ সকালে দলীয় বাস গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে লাহোরের লিবার্টি চৌকের কাছে ওঁত পেতে থাকা ১২ জন সশস্ত্র হামলাকারী বাসটির ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়া শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা ক্রিকেট বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে যায়। এই হামলায় তৎকালীন অধিনায়ক মাহেলা জয়বর্ধনে এবং উপঅধিনায়ক কুমার সঙ্গাকারা সহ মোট সাতজন ক্রিকেটার আহত হয়েছিলেন। থিলান সমারাবীরা এবং থারাঙ্গা পরানাভিতানা গুরুতর জখম হন এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হয়।

পাকিস্তানি পুলিশের তৎপরতা, কিন্তু বড় ক্ষতি
শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের রক্ষা করতে পাকিস্তানি পুলিশ তৎক্ষণাৎ পাল্টা জবাব দেয়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দলীয় বাসকে নিরাপদে স্টেডিয়ামে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। তবে এই সাহসিকতার মূল্য চোকাতে হয়েছে পুলিশের ছয় সদস্য এবং দুই সাধারণ নাগরিককে প্রাণ দিয়ে। হামলাকারীরা রকেট লঞ্চার ও প্রচুর গোলাবারুদ ফেলে পালিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে হামলার পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সংগঠিত।

এখনও সেই আতঙ্ক কাটেনি
২০০৯ সালের ঘটনার পর বহু বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কার্যত পাকিস্তান থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। যদিও গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছিল, কিন্তু ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ আবার সেই পুরনো আতঙ্ককে জাগিয়ে তুলেছে। তাই শ্রীলঙ্কা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিকই। রাওয়ালপিন্ডি এবং ইসলামাবাদের অতি নিকটবর্তী অবস্থান তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। SLC ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে—যে খেলোয়াড় দেশে ফিরতে চাইবেন তার বদলে দ্রুত অন্য খেলোয়াড় পাঠানো হবে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে, যাতে সিরিজ থেমে না যায় এবং আন্তর্জাতিক দলের আস্থা আবার ফিরে আসে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button