
ক্রিস্টিয়ানোকে পিছনে ফেলে ইতিহাস গড়লেন হ্যারি কেন, ৬০ বছর পর ইংল্যান্ডের বড় কীর্তি
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে হ্যারি কেন নতুন ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন এবং ৬০ বছর পর ইংল্যান্ডকে ৪-২ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় উপহার দিয়েছেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইংল্যান্ড দুর্দান্তভাবে তাদের অভিযান শুরু করেছে। গ্রুপ এল-এর ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি কেন, যিনি দলের হয়ে দুটি দুর্দান্ত গোল করেছেন। ম্যাচের ১২তম ও ৪২তম মিনিটে তাঁর করা গোল ইংল্যান্ডকে মজবুত ভিত্তি দেয় এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কেন ছাড়াও জুড বেলিংহ্যাম এবং মার্কাস র্যাশফোর্ড একটি করে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই পারফরম্যান্সের পর বিশ্বজুড়ে হ্যারি কেনকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও ছাড়িয়ে গেলেন
এই ম্যাচের মাধ্যমে হ্যারি কেন নিজের নামের পাশে একটি বড় রেকর্ড যোগ করেছেন। ফিফা বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ১০। বিশেষ বিষয় হলো, মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেও ২৩ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৮ গোল। ফলে বিশ্বকাপে গোল করার গতির দিক থেকে হ্যারি কেন এখন রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে। সেই কারণেই ইংল্যান্ড অধিনায়ককে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৬০ বছর পর ঐতিহাসিক রেকর্ড
ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে এই জয় শুধু সাধারণ জয় নয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৬০ বছর পর আবার কোনো ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে জিতল ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড পশ্চিম জার্মানিকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টেই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতেছিল। তাই অনেক ফুটবল বিশ্লেষক এই জয়কে শুভ লক্ষণ হিসেবেও দেখছেন।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় গোল মেশিন
হ্যারি কেন এখন ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থানে উঠে এসেছেন। তিনি গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইংল্যান্ডের প্রথম ফুটবলার, যিনি টানা তিনটি ভিন্ন ফিফা বিশ্বকাপে গোল করেছেন। এর আগে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে ৬টি এবং ২০২২ বিশ্বকাপে ২টি গোল করেছিলেন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আরও দুটি গোল যোগ করেছেন।
এখনও বাকি বড় রেকর্ড
বিশ্বকাপ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ইংল্যান্ড মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে। হ্যারি কেন যদি এই ছন্দ বজায় রাখতে পারেন, তাহলে তিনি ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ ফুটবলার হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর ফর্ম এবং অধিনায়কত্ব দুটিই ইংল্যান্ডকে শিরোপার দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে। এখন ফুটবল বিশ্বের নজর এই দিকেই, হ্যারি কেন এই বিশ্বকাপে আরও কত বড় রেকর্ড নিজের নামে লিখতে পারেন।





