
গুজরাটের বোলাররাই জয়ের আসল নায়ক, টানা পঞ্চম জয়ে শীর্ষে উঠে এল দল
আইপিএল 2026-এ গুজরাট টাইটান্সের টানা পঞ্চম জয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিচ্ছেন দলের বোলাররা। রাশিদ খান, কাগিসো রাবাডা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও জেসন হোল্ডারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গুজরাট এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে পৌঁছে গেছে।
আইপিএল 2026-এ দুর্দান্ত শক্তির প্রদর্শন করে গুজরাট টাইটান্স টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে 82 রানে হারিয়ে গুজরাট এখন পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে উঠে এসেছে। দলের পারফরম্যান্স এতটাই শক্তিশালী যে এখন অন্য দলগুলোর জন্য তাদের থামানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, গুজরাটের সাফল্য শুধু ব্যাটারদের উপর নির্ভর করছে না, বরং এই মরসুমে দলের জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন তাদের বোলাররা। টি20 ক্রিকেটকে সাধারণত ব্যাটারদের খেলা বলা হয়, কিন্তু গুজরাট সেই ধারণাই বদলে দিয়েছে।
8টির মধ্যে 7 ম্যাচ জিতিয়েছেন বোলাররা
এই মরসুমে গুজরাট টাইটান্স এখন পর্যন্ত 8টি ম্যাচ জিতেছে। এর মধ্যে 7 ম্যাচেই প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার গেছে বোলারদের হাতে। শুধু একবার অধিনায়ক শুভমন গিল ব্যাটিংয়ের জোরে এই পুরস্কার জিততে পেরেছিলেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে গুজরাটের আসল শক্তি তাদের বোলিং ইউনিট। দলের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করেছেন এবং কঠিন সময়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন।
রাশিদ ও রাবাডার দাপট
রাশিদ খান এই মরসুমে দু’বার প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন। দিল্লির বিরুদ্ধে তিনি 17 রান দিয়ে 3 উইকেট নিয়েছিলেন, আর রাজস্থানের বিরুদ্ধে 4 উইকেট নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন। অন্যদিকে কাগিসো রাবাডাও দু’বার এই পুরস্কার জিতেছেন। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে 3 উইকেট এবং হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী বোলিং করে তিনি গুজরাটকে বড় জয় এনে দেন। এই দুই বোলারের ধারালো বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ পুরো কাঁপিয়ে দিয়েছে।
প্রসিদ্ধ ও হোল্ডারেরও দারুণ অবদান
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ লখনউয়ের বিরুদ্ধে 4 উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে জেসন হোল্ডার আরসিবি এবং পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হন। গুজরাটের দলে পেস ও স্পিন—দুই বিভাগেই ম্যাচ জেতানোর মতো বোলার রয়েছে। সেই কারণেই দল প্রতিটি ম্যাচে ভারসাম্যপূর্ণ দেখাচ্ছে এবং প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
আশিষ নেহরার কৌশল সফল
আশিষ নেহরা নিজেও একজন প্রাক্তন পেসার এবং তাঁর কোচিংয়েই গুজরাটের বোলিং ইউনিট ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করছে। দলের সাফল্যের পেছনে নেহরার কৌশল এবং বোলারদের সঠিক ব্যবহারকে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। গুজরাটের বোলাররা প্রতিটি ম্যাচে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নামছে এবং ব্যাটারদের খোলামেলা খেলার সুযোগ দিচ্ছে না। দলের এই ভারসাম্যই তাদের অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর থেকে আলাদা করে তুলেছে।
এবার লক্ষ্য শীর্ষস্থান ধরে রাখা
গুজরাট টাইটান্স এখন প্লে-অফের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং দলের লক্ষ্য গ্রুপ স্টেজ এক নম্বরে শেষ করা। টানা জয়ে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে গেছে। যদি বোলাররা এই ছন্দ বজায় রাখতে পারে, তাহলে গুজরাট এই মরসুমে ট্রফির সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠতে পারে। বাকি দলগুলোর জন্য এখন গুজরাটকে থামানো মোটেও সহজ মনে হচ্ছে না।





