
U-19 এশিয়া কাপে ২৮৪ রানের ধাওয়া, মাঝপথে থমকে গেল নিঃশ্বাস, শেষ ওভারগুলোতে ঘুরে গেল ম্যাচ, বাংলাদেশ কীভাবে হারাল আফগানিস্তানকে?
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ২৮৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে নাটকীয় জয় পেল বাংলাদেশ। ওপেনারদের দাপটের পর মিডল অর্ডার ধস, শেষ ওভারে রিজান হোসেনের শান্ত ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে হারিয়ে স্মরণীয় ম্যাচ জিতে নিল টাইগার যুবরা।
মেন্স অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের গ্রুপ-বি ম্যাচে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের লড়াই ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি মাঠে খেলা এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৮৩ রান। আফগান ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন ফয়সাল শিনোজাদা, যিনি দুর্দান্ত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন। ৯৪ বলে খেলা এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। এছাড়া উজাইরুল্লাহ নিয়াজাই করেন ৪৪ রান। শেষ ওভারগুলোতে আজিজুল্লাহ মিয়াখিল ও আবদুল আজিজের দ্রুত জুটিতে আফগানিস্তান ২৮০ পেরিয়ে যায়, ফলে ম্যাচ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।
ওপেনারদের তাণ্ডব
২৮৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওপেনার রিফাত বেগ ও জাওয়াদ আবরার আফগান বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে ১৫১ রানের দুর্দান্ত ওপেনিং জুটি, যা বাংলাদেশকে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেয়। রিফাত বেগ করেন ৬২ রান, আর জাওয়াদ আবরার শতক থেকে বঞ্চিত হয়ে ৯৬ রানে আউট হন। তখন বাংলাদেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল। এক সময় স্কোর ছিল ২৩৬/২, আর দরকার ছিল ৪৫ বলে মাত্র ৪৮ রান। মনে হচ্ছিল, ম্যাচ সহজেই শেষ হয়ে যাবে।
হঠাৎ নেমে এল সংকট
কিন্তু ঠিক তখনই ম্যাচে আসে বড় মোড়। পরের চার ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশ হারায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। একের পর এক উইকেট পড়তেই চাপ বাড়তে থাকে এবং আফগানিস্তান ফের ম্যাচে ফেরার আশা পায়। মিডল অর্ডারে এই ধস বাংলাদেশের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকি তৃতীয় উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়েছিলেন, কিন্তু এরপর আবার দ্রুত উইকেট পড়তে থাকায় ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আফগান বোলাররা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তের জয়
এই চাপের সময় বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে ওঠেন অলরাউন্ডার রিজান হোসেন। তিনি ধৈর্য ধরে অপরাজিত ১৭ রান করেন এবং দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। বাংলাদেশ ৪৮.৫ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৪ রান তুলে ম্যাচটি ৩ উইকেটে জিতে নেয়। আফগানিস্তানের হয়ে শতরান করা সত্ত্বেও দলটি হার এড়াতে পারেনি। এই ম্যাচে বাংলাদেশ শুধু জয়ই পায়নি, বরং চাপের মধ্যে শান্ত থেকে ম্যাচ শেষ করার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয়তা ম্যাচটিকে এশিয়া কাপের স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি করে তুলেছে।





