
বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বড় মন্তব্য, বললেন– ‘বিসিসিআই ও ভারতের সঙ্গে এখন সম্পর্ক…’
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের পর কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমাতে উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আসন্ন ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বড় সুযোগ হতে পারে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গত কয়েক মাসে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে ক্রীড়া জগতেও। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে বাংলাদেশ ভারতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্ব কাপে অংশই নেয়নি। এখন নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকা থেকে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক চান। শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি সংসদ ভবনে ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং টুর্নামেন্টে দলের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
বিতর্কের শুরু কোথায়?
এই উত্তেজনার সূত্রপাত বলা হচ্ছে আইপিএল ২০২৬-সংক্রান্ত এক সিদ্ধান্ত থেকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে না নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার জাতীয় দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকার করে এবং ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলে। আইসিসি প্রস্তাবটি নাকচ করলে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইসিসির অবস্থান ও স্বস্তি
পুরো ঘটনাপ্রবাহের মাঝেও স্বস্তির বিষয় ছিল, আইসিসি বাংলাদেশের ওপর কোনও আর্থিক জরিমানা আরোপ করেনি। বরং ২০৩১ একদিনের বিশ্ব কাপে সহ-আয়োজক হওয়ার আগে একটি অতিরিক্ত আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের অধিকার দেয়। একে দুই দেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন নজর ২০২৬ সিরিজে
ক্রীড়াপ্রেমীদের চোখ এখন সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফরের দিকে। এই সিরিজে তিনটি একদিনের ও তিনটি টি২০ ম্যাচ হওয়ার কথা। নতুন সরকারের উদ্যোগের পর আশা করা হচ্ছে, এই সফর কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমাতে সাহায্য করবে এবং মাঠে আবারও রোমাঞ্চকর ভারত-বাংলাদেশ লড়াই দেখা যাবে। আলোচনা সফল হলে ক্রিকেট আবারও দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করার সেতু হয়ে উঠতে পারে।





