
আবার কেঁপে উঠল বাংলাদেশের মাটি, ৩২ ঘণ্টায় চার ভূমিকম্প! আয়ারল্যান্ড ম্যাচ চলাকালেও কেঁপেছিল মাঠ, ভয় আর দুশ্চিন্তায় ঢেকে গেল পুরো ঢাকা
৩২ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্প কাঁপিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম ৫.৭ মাত্রার কম্পনে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০ জনের। ঢাকাসহ আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে বড় ভূমিকম্পের আগাম সংকেত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
বাংলাদেশে ৩২ ঘণ্টার মধ্যে পরপর চারটি ভূমিকম্পে পুরো দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৫.৭ মাত্রার প্রথম কম্পনে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে। এর পরে আরও তিনটি শক্তিশালী আফটারশক দেশকে আবারও কাঁপিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, এই চারটি ঝাঁকুনি আসলে বড় ভূমিকম্পের ‘ফোর-শক’ হতে পারে। ঢাকার পুরোনো এলাকায় বহু ভবনের দেয়াল ভেঙে পড়েছে এবং সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল নারসিংদীতে, ভূমি পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর ঠিক পরের দিন শনিবার সকালেও আবার ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এর পর শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা, নারসিংদি ও আশপাশের এলাকায় টানা দু’বার ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, তিনটি আফটারশকের মধ্যে একটি কেন্দ্র ছিল ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বাড্ডা এলাকার ঠিক নিচে।
মানুষের ভয় আরও বেড়ে গেল
আবহাওয়া দফতরের মুখপাত্র তারিফুল নবাজ কবীর জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা ছ’টার দিকে প্রায় একই সময়ে দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়- বাড্ডারটির মাত্রা ছিল ৩.৭ এবং নারসিংদীরটির মাত্রা ছিল ৪.৩। এগুলোকে হালকা ভূমিকম্প বলা হলেও টানা ঝাঁকুনিতে মানুষের আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোমেনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবারের মূল ভূমিকম্পের পরে আসা এই তিনটি কম্পনই আফটারশক এবং প্রথম ঝাঁকুনি ২৫ সেকেন্ডেরও বেশি স্থায়ী হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে বাংলাদেশ বড় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, যার কারণে দেশ বড় ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্প-সংবেদনশীল ২০ শহরের একটি- অতিরিক্ত জনসংখ্যা, জরাজীর্ণ ভবন আর পুরোনো এলাকার বিপজ্জনক স্থাপনা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড টেস্ট ম্যাচেও কেঁপেছিল মাঠ
ঐতিহাসিকভাবেও এই অঞ্চল শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসেছে। ১৮৬৯ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে এখানে ৭.০–এর বেশি মাত্রার পাঁচটি বড় ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এখন টানা চারটি কম্পনের পরে মানুষ আবার সেই পুরোনো আতঙ্ক অনুভব করতে শুরু করেছে। ঢাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে এবং প্রশাসন দুর্বল ভবনগুলো পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কয়েকদিন আগেই যখন বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের টেস্ট ম্যাচ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তখনও ম্যাচ চলাকালীন মাঠে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছিল। সেই সময় খেলোয়াড় ও দর্শকরা আতঙ্কে মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। আর এখন কয়েকদিনের মধ্যেই আবার ৩২ ঘণ্টায় চার ভূমিকম্প- ফলে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। ক্রিকেট মাঠে অনুভূত কম্পন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা ঝাঁকুনি- বাংলাদেশ এই মুহূর্তে প্রকৃতির দ্বিগুণ আঘাত সহ্য করছে।





