
বঙ্গবন্ধু-আয়ারল্যান্ড টেস্টে ব্যাটিং ঝড়, পাঁচ ব্যাটারের হাফসেঞ্চুরি, ইতিহাসে জায়গা করে নিল সেই ম্যাচ
সিলেট টেস্টে পাঁচ ব্যাটারের হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ গড়েছে বিরল রেকর্ড। জয়ের ১৭১, শাদমান, মুমিনুল, শান্ত ও লিটনের ব্যাটিং ঝড়ে দল নেয় ২৫০+ রানের লিড। ইতিহাস বলছে—যখন বহু ব্যাটার একসঙ্গে জ্বলে ওঠে, বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য হয়।
সিলেটে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড টেস্ট যেন ইতিহাস লিখে ফেলেছে। জুলাইয়ের পর টেস্টে ফিরেই বাংলাদেশ দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে। আয়ারল্যান্ডকে মাত্র ২৮৬ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছে ব্যাটাররা। পাঁচজন ব্যাটারই হাফসেঞ্চুরি বা তার বেশি রান করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। মাহমুদুল হাসান জয় খেলেন ক্যারিয়ারের সেরা ১৭১ রানের ইনিংস, সঙ্গে শাদমান ইসলাম ৮০, মুমিনুল হক ৮২, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৫০+ এবং লিটন দাসও দুর্দান্ত ফিফটি করেন। এসব ইনিংসের জোরেই বাংলাদেশ গড়ে ২৫০+ রানের লিড।
অতীতেও বহুবার উজ্জ্বল হয়েছেন চার ব্যাটার একসঙ্গে
বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে অনেকবার দেখা গেছে-এক ইনিংসে চার ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি করে ম্যাচের রূপরেখা বদলে দিয়েছেন। ২০২২ চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম ইকবাল (১৩৩), মুশফিকুর রহিম (১০৫), মাহমুদুল হাসান জয় (৫৮) ও লিটন দাস (৮৮) মিলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে শক্ত স্কোর গড়েন। একই বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে মুমিনুল হক (৮৮), লিটন দাস (৮৬), জয় (৭৮) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৬৪) এমন সব ইনিংস খেলেন যে বাংলাদেশ বিদেশের মাঠে ঐতিহাসিক জয় পায়। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টেও মহমুদউল্লাহর অপরাজিত ১৫০, তাসকিন আহমেদের ৭৫ রান ও শান্ত–লিটনের পরিণত ব্যাটিং দলকে বিশাল স্কোর দেয়। চার ব্যাটারের এই সব ইনিংস শুধু ম্যাচে সুবিধাই দেয়নি, অনেক সময় জয়কেও সহজ করে দিয়েছে।
শুরু দশকে ব্যাটিংয়ের শক্তি-অনেক বড় রেকর্ডের সাক্ষী
২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে মহমুদউল্লাহ (১৩৬), শাদমান (৭৬), সাকিব (৮০) ও লিটন (৫৪)-এর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে জেতায়। এরপর ২০১৩ গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ তোলে ৬৩৮ রানের মহাস্কোর—মুশফিকুরের রেকর্ড ২০০, মোহাম্মদ আশরাফুলের ১৯০, নাসির হোসেনের ১০০ ও মুমিনুলের ৫৫ রান ছিল এর মূল ভিত্তি। এমনকি ২০১০ ইংল্যান্ড সিরিজেও তামিম (৮৫), মহমুদউল্লাহ (৫৯), নাঈম ইসলাম (৫৯) ও শফিউল ইসলাম (৫৩) মিলে ৪১৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করান। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে—যখন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার একসাথে রান করে, তখন এই দল যে কোনো বড় প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।
বড় ম্যাচে পাঁচ ব্যাটারের জ্বলে ওঠা-অসাধারণ রেকর্ড
বাংলাদেশ বহুবার এক ইনিংসে পাঁচ ব্যাটারের ৫০+ রানের দুর্লভ কীর্তি গড়েছে—যা তাদের ব্যাটিং গভীরতা ও সামষ্টিক শক্তির পরিচয়। ২০২৪ পাকিস্তান টেস্টে মুশফিকুর (১৯১), শাদমান (৯৩), মুমিনুল (৫০), লিটন (৫৬) ও মেহেদী (৭৭) মিলেই তৈরি করেন ম্যাচজয়ী প্রথম ইনিংস। আবার ২০২১ শ্রীলঙ্কা টেস্টে তামিম (৯০), শান্ত (১৬৩), মুমিনুল (১২৭), মুশফিকুর (৬৮) ও লিটন (৫০) দেশকে ৫৪১/৭-এ পৌঁছে দেন। ২০১৭ নিউজিল্যান্ড টেস্টে সাকিব (২১৭) ও মুশফিকুর (১৫৯)-এর ইতিহাস গড়া জুটির সঙ্গে তামিম, মুমিনুল ও সাব্বিরের ফিফটিও দলকে ৫৯৫/৮ (ঘোষিত) পর্যন্ত নিয়ে যায়। এসব ম্যাচ প্রমাণ করে—যখন টপ ও মিডল অর্ডার একসঙ্গে রানের ফোয়ারা ছাড়ে, তখন বাংলাদেশ যে কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেই পুরোপুরি চাপে ফেলে দিতে পারে।





