
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতেই ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ, আইসিসির বিরুদ্ধে ক্লান্তি ও বৈষম্যের গুরুতর অভিযোগ
অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বাংলাদেশ আইসিসির বিরুদ্ধে গুরুতর বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে। অতিরিক্ত ভ্রমণ, ক্লান্তি ও সূচি পরিবর্তনের কারণে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিসিবি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে। এবার বিষয়টি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপকে ঘিরে। টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর বাংলাদেশ সরাসরি আইসিসির বিরুদ্ধে অন্যায্য আচরণের অভিযোগ তুলেছে। দলের দাবি, গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের অতিরিক্ত ভ্রমণ করতে হয়েছে, যার ফলে খেলোয়াড়রা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব পারফরম্যান্সে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
হারের জন্য আইসিসিকেই দায়ী করল বাংলাদেশ
এটি বাংলাদেশের প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগেও একাধিকবার আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা। এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের খেলোয়াড় উন্নয়ন সমন্বয়ক হাবিবুল বাশার প্রকাশ্যে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, দলের ভ্রমণ সূচি অত্যন্ত খারাপ ছিল। খেলোয়াড়দের এক শহর থেকে আরেক শহরে বারবার যেতে হয়েছে, যার ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ মেলেনি এবং ম্যাচে ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল।
নিজেদের খরচে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করল বিসিবি
হাবিবুল বাশার জানান, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে নিজেদের পকেট থেকে খেলোয়াড়দের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হয়। তিনি বলেন, বাসে যাতায়াত ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ এবং খেলোয়াড়রা আগেই ক্লান্ত ছিল। তাই বিসিবি নিজ খরচে বিমান যাত্রার ব্যবস্থা করে, যাতে খেলোয়াড়রা অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।
আইসিসির সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাশার
বাশার আইসিসির তৈরি করা সূচিকেও অন্যায্য বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী দলকে এক জায়গায় দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে হওয়ার কথা ছিল এবং এরপর গ্রুপ ম্যাচের জন্য অন্য জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সূচি বদলে দেওয়া হয়। এর ফলে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শহরে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে হয় এবং বারবার ভ্রমণ করতে হয়, যা খেলোয়াড়দের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
শুরুতেই সতর্ক করেছিল বাংলাদেশ
বাংলাদেশের দাবি, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তারা আইসিসিকে অতিরিক্ত ভ্রমণের চাপ নিয়ে সতর্ক করেছিল। দল চেয়েছিল অনুশীলন ম্যাচগুলো যেন একই জায়গায় রাখা হয়, যাতে বারবার সফর করতে না হয়। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি মানেনি। বাশারের মতে, একবার টুর্নামেন্ট শুরু হয়ে যাওয়ার পর সূচি বদলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অন্য দলগুলো পেয়েছে বেশি সুবিধা
বাংলাদেশ আরও অভিযোগ করেছে যে অন্য দলগুলোকে এত বেশি ভ্রমণ করতে হয়নি। ভারত তাদের সব অনুশীলন ও ম্যাচ একই শহরে খেলেছে। অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানকেও তুলনামূলকভাবে কম সফর করতে হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে বারবার শহর বদলাতে হয়েছে। এই অসম ব্যবস্থাপনাকেই বৈষম্য ও অন্যায় বলে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।





