Cricket

অকশনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তোলপাড়! বড় নামদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ… কারা বাদ পড়লেন ড্রাফ্ট থেকে?

BPL 2026 অকশনের আগেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সাত খেলোয়াড়কে ড্রাফ্ট থেকে বাদ দিল BCB। আনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেনের নাম থাকায় বিতর্ক ও উত্তেজনা তুঙ্গে।

BPL 2026-এর অকশন শুরু হওয়ার মাত্র একদিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধাক্কা লেগেছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) মোট ৭ জন খেলোয়াড়কে ড্রাফ্ট থেকে বাদ দিয়েছে। এই তালিকায় দুইজন তারকা ক্রিকেটারের নামও রয়েছে, যার ফলে পুরো ক্রিকেট দুনিয়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যখন সব দল অকশনের স্কোয়াড প্ল্যানিংয়ে ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই এত বড় সিদ্ধান্ত সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।

কারা সেই ৭ খেলোয়াড়? দুই বড় নামকে কেন্দ্র করে আলোচনা
ড্রাফ্ট থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটারদের মধ্যে নাম রয়েছে- আনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন, শফিউল ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও নিহাদুজ্জামান। এদের মধ্যে আনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেনকে দেশের প্রতিষ্ঠিত ও বড় ক্রিকেটার ধরা হয়। বিজয়কে বাদ দেওয়া বিশেষভাবে বড় সিদ্ধান্ত, কারণ BCB আগেই জানিয়েছিল যে প্রায় ১০ জন ক্রিকেটারকে “রেড মার্ক জোন”-এ রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে-আর সেটাই বাস্তবে প্রয়োগ হলো।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা আনামুল হক বিজয়ের জন্য
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে আনামুল হক বিজয়ের উপর। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৮টি টেস্ট, ৪৯টি ওয়ানডে ও ২০টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার রেকর্ড আরও উজ্জ্বল। BPL-এ তিনি ১৩১ ম্যাচে ২৭৭৬ রান করেছেন, যেখানে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও ১৬টি ফিফটি। তাকে সবসময়ই BPL-এর নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে দেখা হয়েছে। ফলে অকশন থেকে তার বাদ পড়া শুধু তার ক্যারিয়ারের জন্য নয়, দলগুলোর জন্যও বড় ধাক্কা।

আরও বড় ব্যবস্থা আসছে? তদন্ত এখনো চলছে
BCB-এর অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই এই খেলোয়াড়দের ওপর নজর রাখছিল। বোর্ড জানিয়েছে-তদন্ত এখনো চলছে এবং প্রয়োজনে আরও ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অকশন শুরু হতে আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বাকি, আর তার আগেই এমন বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে টুর্নামেন্টকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখতে। এখন নজর থাকবে- এই সাত ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কী কঠোর শাস্তি দেওয়া হয় এবং BPL 2026 কি সত্যিই কোনো বিতর্ক ছাড়াই শুরু হতে পারবে। আপাতত এতটাই পরিষ্কার যে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জিরো টলারেন্স নীতি সবচেয়ে কড়া ভাবে প্রয়োগ করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button