Cricket

যে খেলোয়াড় করলেন তিন বড় রেকর্ড, দিগ্গজদের ক্লাবে করলেন এন্ট্রি, জেনে নিন বাংলাদেশের হিন্দু খেলোয়াড়ের নেট worth কত!

মিরপুর টেস্টে শতক করে লিটন দাস তিন বড় রেকর্ড গড়লেন এবং দিগ্গজদের তালিকায় নাম লিখালেন। তার নেট worth বর্তমানে ₹২৫–₹৩০ কোটি টাকার মধ্যে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাট এমন চলল যে ঢাকার পিচও অবাক হয়ে গেল কিন্তু এই পুরো ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প ছিলেন লিটন দাস, সেই খেলোয়াড় যিনি মাঠে এমন বিস্ফোরণ ঘটালেন যে আয়ারল্যান্ডের বোলাররা শুধু দেখেই রইলেন। প্রথমে মুশফিকুর রহিম নিজের ১০০তম টেস্টে শতক জড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন, আর তারপর লিটন দাসও নিজের ক্লাসিক ব্যাটিংয়ে শতক হাঁকালেন। ১৯২ বলে ১২৮ রান-এগুলো শুধু রান নয়, বরং এই ঘোষণা যে বাংলাদেশের এই তারকা ব্যাটসম্যান এখন বিশ্বের বড় খেলোয়াড়দের কাতারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢুকে পড়েছেন। তার এই ইনিংস দলকে ৪০০-এর ওপরে নিয়ে গেল এবং ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে চলে গেল।

তিন বড় রেকর্ড নিজের নামে করলেন
লিটন দাসের এই ইনিংসের বিশেষ দিক এটাই যে তিনি এক ম্যাচেই তিন বড় রেকর্ড নিজের নামে লিখে ফেললেন। প্রথমত-শতক করে তিনি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে দিগ্গজদের ক্লাবে আনুষ্ঠানিক এন্ট্রি করে নিলেন। দ্বিতীয়ত-তার এই ইনিংস মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে সপ্তম শতরান জুটি, যা বাংলাদেশের যে কোনো টেস্ট জুটির সবচেয়ে বড় রেকর্ড। তৃতীয়ত-এই ইনিংসের সাথে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান পূরণ করা দেশের দ্রুততম ব্যাটসম্যানদের একজন হয়ে গেলেন। তার শট সিলেকশন, টাইমিং এবং ধৈর্য দেখিয়ে দিল যে রেড-বল ক্রিকেটে তিনি এখন বাংলাদেশের নতুন মেরুদণ্ড। যেখানে একদিকে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা স্পিনে ভেঙে পড়ছিলেন, সেখানে লিটন দাস বরফের মতো শান্ত আর ধারালো তলোয়ারের মতো ক্ষিপ্র ছিলেন।

ক্রিকেট বোর্ডের সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্টে অন্তর্ভুক্ত
এখন আসা যাক সেই বিষয়ে, যার আলোচনা মাঠের বাইরে সবচেয়ে বেশি-লিটন দাসের নেট worth। আসলে রানের বৃষ্টি তিনি করেনই, কিন্তু তার উপর টাকার বৃষ্টিও কম হয় না। মিডিয়া রিপোর্ট এবং আর্থিক অনুমান অনুযায়ী, এই সময় লিটন দাসের মোট নেট worth ₹২৫ কোটি থেকে ₹৩০ কোটি টাকার মধ্যে। অর্থাৎ ক্রিকেটের ভাষায় বললে-তার শট যেমন স্টাইলিশ, তার আয়ও ততটাই স্টাইলিশ। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্টে আছেন, যেখান থেকে তিনি প্রতি মাসে মোটা বেতন পান। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফি-টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০-তিন ফরম্যাটেই তার আলাদা আয় হয়।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে হয় বড় আয়
আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাকে প্রতি মরসুমে মোটা অঙ্কে দলে নেয়। একই সঙ্গে ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট এবং বিজ্ঞাপন তার আয়ে অতিরিক্ত জোগান দেয়। ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের কারণে বহু স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা তাকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে বেছে নেয়। লিটন দাস যখন ক্রিজে দাঁড়ান, তখন শুধু বোলারদেরই নয়, বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলোরও ধড়ফড়ানি বেড়ে যায়-এমন খেলোয়াড় টাকা যেমন টানেন, দর্শকদেরও মাঠে আটকে রাখেন।

লিটন দাসের আয় এবং ক্যারিয়ার এখনো শুধু শুরুতেই। ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ৫২টি টেস্ট খেলেছেন এবং ৩১১৭ রান করেছেন। তার ব্যাটিংয়ের গতি প্রতিটি বছর বাড়ছে, এবং এটা স্পষ্ট যে সামনে তার নেট worth আরও দ্রুত বাড়তে চলেছে। মিরপুরের এই শতক শুধু একটি অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন সুপারস্টারের আগমনের সংকেত। এবং এখন যখন তিনি দিগ্গজদের ক্লাবে আনুষ্ঠানিক প্রবেশ করেছেন, তখন বলা ভুল হবে না-লিটন দাস আগামী প্রজন্মের জন্য এক বিশাল আইকন হতে যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button