
আখির কে এই বাংলাদেশের নাহিদা আক্তার? ক্রিকেট গলিপথের ‘স্পিন কুইন’-এর গল্প জানুন
বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার এখন দেশের ক্রিকেটে স্পিন কুইন নামে পরিচিত। সংগ্রাম থেকে উঠে এসে তিনি রেকর্ড সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজে জয় এনে দিয়েছেন এবং এখন দলের কৌশলগত ভরসা।
বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার ও সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার আজ এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন যেখানে তার নাম এশিয়ার শীর্ষ বোলারদের তালিকায় নেওয়া হয়। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তিনি বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা খেলোয়াড় এবং এই ফরম্যাটে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও তার দখলে। নাহিদার সেলিব্রেশনের স্টাইল—দুই হাত ছড়িয়ে দৌড়ে ওঠা—তাকে মাঠে আলাদা পরিচয় দেয়। তার পারফরম্যান্স বহুবার বাংলাদেশকে বড় ম্যাচ জিতিয়েছে এবং তিনি নতুন প্রজন্মের মেয়েদের কাছে আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
ভারতকে থামিয়ে ইতিহাস রচনা
২০২৩ সালে যখন বাংলাদেশ প্রথমবার ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করেছিল, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন নাহিদা আক্তার। শেষ ম্যাচে ভারতের দরকার ছিল মাত্র ১০ রান, আর নাহিদা ৪৮তম ওভারে ম্যাজিক দেখালেন—মাত্র ১ রান ও ২ উইকেট। এই ওভারই বাংলাদেশকে ইতিহাস গড়তে সাহায্য করেছিল। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে জয়েও তিনি ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হন। আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ ৩২ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও তার। সাম্প্রতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ সিরিজেও তিনি মাত্র ৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলে দেন।
সংগ্রাম থেকে তারকা হয়ে ওঠা
নাহিদার পথচলা সহজ ছিল না। ২০১৩ সালে যখন তিনি BKSP-তে যোগ দেন, তখন তিনি ঠিকভাবে হাত ঘুরিয়ে বোলিং করতেও জানতেন না। তবে কোচ ডলি দে ও মেহেদি হাসান তার প্রতিভা চিনে ফেলেন। প্রথম মৌসুমে সুযোগ না পেলেও পরের মৌসুমে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন এবং এরপর ১৭-১৮ উইকেট নিয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্পে পৌঁছে যান। জাতীয় দলে আসার পর বাংলাদেশের কিংবদন্তি সালমা খাতুন তাকে যেভাবে গাইড করেছেন তা নাহিদা আজও মনে রাখেন। নাহিদার কথায়—“সালমা দিদি আমাকে শুধু খেলোয়াড় নয়, মানুষও বানিয়েছেন।”
সহ-অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্ব
সহ-অধিনায়ক হিসেবে নাহিদা শুধু বোলিং নয়, দলের কৌশলগত পরিকল্পনাতেও বড় ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন—“আমি দলের লিড স্পিনার। বিশ্বকাপে চাই সবাই বলুক—বাংলাদেশকে বোলাররা জিতিয়েছে।” ব্যাটিংয়েও কাজ করছেন তিনি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল তার অনুপ্রেরণা, জার্সি নম্বর ৩২-ও তাই। তিনি চান ফিল্ডিংয়েও ম্যাক্সওয়েলের মতো ক্ষিপ্র হতে।





