Cricket

১৪, ১৩, ১৫… বৈভব সূর্যবংশীকে ইংল্যান্ড শিখিয়ে দিল সেই শিক্ষা, যা IPL শেখাতে পারেনি

ইংল্যান্ড সফরে টানা তিন ইনিংসে ব্যর্থ হলেও বৈভব সূর্যবংশীর জন্য এটি বড় শেখার সুযোগ। শর্ট বলের বিরুদ্ধে দুর্বলতা, ধৈর্য এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের গুরুত্ব বুঝে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারেন এই তরুণ ব্যাটার।

আইপিএলে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে শিরোনামে উঠে আসা বৈভব সূর্যবংশী ইংল্যান্ড সফরে এখন পর্যন্ত প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স করতে পারেননি। তিনি টানা তিন ইনিংসে ১৪, ১৩ এবং ১৫ রান করেছেন। যদিও এই পরিসংখ্যান হতাশাজনক, তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়টাই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মতো কঠিন পরিস্থিতি যে কোনও তরুণ ব্যাটারের আসল পরীক্ষা নেয়।

ইংল্যান্ডে সামনে এল সবচেয়ে বড় দুর্বলতা

ইংল্যান্ডের গতি ও বাউন্সসমৃদ্ধ পিচে বৈভব শর্ট বলের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়েছেন। পেসাররা তাঁর এই দুর্বলতাকেই লক্ষ্য করেছেন। আইপিএলে যেখানে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছিল, সেখানে ইংল্যান্ডে প্রতিটি বলেই বড় শট খেলার চেষ্টা তাঁর জন্য ক্ষতিকর প্রমাণ হয়েছে। এখন তাঁকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনতে হবে।

শুধু বৈভব নয়, পুরো দলই ছিল সংগ্রামে

এই সিরিজে শুধু বৈভবই নন, টিম ইন্ডিয়ার অনেক ব্যাটারই ধারাবাহিকভাবে রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অভিষেক শর্মা এবং কিছুটা অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকে বাদ দিলে বাকি ব্যাটাররাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তাই পুরো হারের দায় একজন ১৫ বছরের খেলোয়াড়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তরুণ খেলোয়াড়দের সময় এবং আস্থার প্রয়োজন হয়।

এবার প্রযুক্তির সঙ্গে ভাবনাও বদলাতে হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভবকে শুধু নিজের টেকনিক নয়, ব্যাটিংয়ের ধরনও বদলাতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি বলেই আক্রমণ করা জরুরি নয়। অনেক সময় বল ছেড়ে দেওয়া, ধৈর্য ধরা এবং সঠিক সুযোগের অপেক্ষা করাই বড় ইনিংসের ভিত্তি তৈরি করে। ইংল্যান্ডের এই সফর তাঁকে সেটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে শুধু শক্তি নয়, বুদ্ধিমত্তাও একজন বড় ব্যাটারের পরিচয়।

ক্যারিয়ারের শুরুতেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

বৈভব সূর্যবংশী এখনও নিজের ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর ধাপে রয়েছেন এবং তাঁর সামনে দীর্ঘ পথ পড়ে আছে। ক্রিকেট ইতিহাস সাক্ষী, অনেক মহান ব্যাটারই শুরুতে সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজেদের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন। তাই ইংল্যান্ডের এই সিরিজ বৈভবের জন্য ব্যর্থতা নয়, বরং শেখার সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদি তিনি এই অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে আরও উন্নত করতে পারেন, তাহলে এই তিনটি ছোট ইনিংসই ভবিষ্যতে তাঁর বড় ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত প্রমাণ হতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button