Cricket

টিম ইন্ডিয়ার হারের সবচেয়ে বড় কারণ কী? ইংল্যান্ডে অভিজ্ঞতার অভাব নয়, খারাপ পারফরম্যান্সই ডুবিয়েছে পুরো সিরিজ

ইংল্যান্ড সফরে টিম ইন্ডিয়ার হারের মূল কারণ ছিল ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতা। শুধু অভিজ্ঞতার অভাব নয়, টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, মিডল অর্ডারের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স এবং বোলিংয়ে শৃঙ্খলার ঘাটতিই সিরিজে ভারতের পিছিয়ে পড়ার বড় কারণ।

ইংল্যান্ড সফরে টিম ইন্ডিয়ার অনেক খেলোয়াড়ের জন্য এটি ছিল প্রথম টি-২০ অভিজ্ঞতা। অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, শিবম দুবে, ওয়াশিংটন সুন্দর, প্রিন্স যাদব, বৈভব সূর্যবংশী এবং সঞ্জু স্যামসন এই সিরিজের আগে ইংল্যান্ডে কোনো টি-২০ ম্যাচ খেলেননি। অন্যদিকে শ্রেয়স আইয়ার, অক্ষর প্যাটেল, ঈশান কিশন, অর্শদীপ সিং এবং রবি বিষ্ণোই এর আগে এখানে খেলেছেন। তবে শুধু অভিজ্ঞতার অভাবকে হারের কারণ বলা ঠিক হবে না, কারণ দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন।

টপ অর্ডার পুরোপুরি ব্যর্থ

সিরিজে ভারতের ব্যাটিংই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে সামনে এসেছে। অভিষেক শর্মা দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ রান করার পর পরের দুই ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বৈভব সূর্যবংশীও তিন ইনিংসে ভালো শুরু করলেও তা বড় স্কোরে রূপ দিতে পারেননি। ঈশান কিশনও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। একটি অর্ধশতক ছাড়া তিনি বারবার কম রানে আউট হয়েছেন। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার চতুর্থ ম্যাচে অপরাজিত ৮০ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা তাঁকে সঙ্গ দিতে পারেননি, ফলে দল সম্মানজনক স্কোরেরও বেশি এগোতে পারেনি।

মিডল অর্ডার ও অলরাউন্ডাররাও ছিলেন নিষ্প্রভ

সহ-অধিনায়ক তিলক বর্মা পুরো সিরিজে সংগ্রাম করেছেন এবং চার ইনিংসে মাত্র ৫১ রান করতে পেরেছেন। শিবম দুবেও প্রথম ম্যাচের পর আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি। অক্ষর প্যাটেলের কাছ থেকে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের আশা ছিল, কিন্তু ব্যাট ও বল—দুই ক্ষেত্রেই তিনি প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় দলের ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এবং মিডল অর্ডার প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপে ভেঙে পড়ে।

বোলিংয়েও দেখা যায়নি ধার

ভারতীয় বোলিংও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের আটকে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রিন্স যাদবকে দেরিতে সুযোগ দেওয়া হয়, আর রবি বিষ্ণোই ও বরুণ চক্রবর্তী ছিলেন ব্যয়বহুল। অর্শদীপ সিং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেও অন্য প্রান্ত থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে দ্রুত রান তুলেছেন এবং ভারতীয় বোলাররা পুরো সিরিজেই চাপ তৈরি করতে পারেননি।

শুধু অভিজ্ঞতা নয়, পারফরম্যান্সই ছিল হারের কারণ

সিরিজ শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, আসল হারের কারণ কী ছিল। পাওয়া পরিসংখ্যান এবং পারফরম্যান্স দেখলে শুধু ইংল্যান্ডের পরিবেশকে দায়ী করা যায় না। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক খারাপ শুরু, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা, বোলিংয়ে শৃঙ্খলার অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের চাপে ভেঙে পড়াই হারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল। এখন শেষ ম্যাচে টিম ইন্ডিয়া সম্মান বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে, আর সিরিজ শেষে দলের পারফরম্যান্সের পর্যালোচনার দিকেই সবার নজর থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button