
জাতীয় ক্রিকেটারের গলা চেপে ধরা, লাঠি দিয়ে মারধর? বাংলাদেশে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসান পুলিশের বিরুদ্ধে গলা চেপে ধরা ও মারধরের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাটি চট্টগ্রামে ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে এমন একটি খবর সামনে এসেছে যা ক্রীড়াজগতকে হতবাক করেছে। বাংলাদেশের অফ স্পিনার নাঈম হাসান অভিযোগ করেছেন যে তার সঙ্গে পুলিশ কথিতভাবে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেছে। ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রামে, যখন তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচ খেলে ফ্লাইটে করে নিজের শহরে ফিরছিলেন। ফ্লাইটে দেরি হওয়ার কারণে তিনি গভীর রাতে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পুলিশ গাড়িটি থামায় এবং এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।
গলা চেপে ধরা ও মারধরের অভিযোগ
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাত প্রায় 11:25 মিনিটে লঙ্কান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ অটোরিকশা চালকের কাছে কাগজপত্র চায়। নাঈম হাসানের দাবি, তিনি পুলিশকে সহযোগিতার কথা বলেন এবং প্রয়োজনে তার ব্যাগও তল্লাশি করতে পারেন বলে জানান। কিন্তু এরপরও এক পুলিশ সদস্য তার গলা চেপে ধরেন এবং জোর করে গাড়িতে উঠতে বলেন। নাঈমের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়, গাড়িতে তোলা হয় এবং পরে মারধর করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে অশালীন ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিচয় জানানোর পর বদলে যায় আচরণ
নাঈম হাসান জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের তিনি বলেছিলেন যে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় এবং দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। তবে শুরুতে কেউ তার কথা গুরুত্ব দেয়নি। পরে যখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি পৌঁছায় এবং নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত হয়, তখন পুলিশের আচরণ বদলে যায়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই পুরো ঘটনা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষোভ
ঘটনা সামনে আসার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বোর্ড নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছে, দোষী প্রমাণিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি বোর্ড জানিয়েছে, তারা নিয়মিত নাঈম হাসান ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করছে।
তদন্তের আশ্বাস পুলিশের
অন্যদিকে চট্টগ্রাম পুলিশ প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেছেন, বাহিনীতে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কোনো পুলিশ সদস্যের দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত এই ঘটনা বাংলাদেশে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে সবার নজর রয়েছে।





