
বাংলাদেশ আবারও গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান, 2-0 ব্যবধানে সিরিজ জয়, রিজওয়ানের লড়াইও কাজে এল না
বাংলাদেশ আবারও পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়েছে। 437 রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের লড়াইও পাকিস্তানকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে 78 রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ 2-0 ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, টানা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল। এর আগে পাকিস্তানের মাটিতেও বাংলাদেশ 2-0 ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল। এবার নিজেদের ঘরের মাঠে পাওয়া এই জয় দলের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
437 রানের লক্ষ্য হয়ে উঠল পাহাড়
দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সামনে 437 রানের বিশাল লক্ষ্য দেয়। জবাবে পাকিস্তান লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিনে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল আরও 121 রান এবং হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট। আশা ছিল মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং নিচের সারির ব্যাটারদের ওপর।
রিজওয়ান লড়লেন, কিন্তু দল হারল
শেষ দিনে মোহাম্মদ রিজওয়ান একপ্রান্ত ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তিনি সাজিদ খানের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটিও গড়েন। কিন্তু তাইজুল ইসলাম সাজিদকে আউট করে পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন। এরপরই শরিফুল ইসলাম 94 রান করে খেলা রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দেন। রিজওয়ান নিজের শতক থেকে মাত্র 6 রান দূরে থেমে যান।
তাইজুল ইসলামই বড় নায়ক
বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি একাই 6 উইকেট তুলে নেন। তাইজুল 34.2 ওভারে 120 রান দিয়ে পাকিস্তানের অর্ধেক দলকে সাজঘরে ফেরান। তার সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি এবং পুরো দল 358 রানে অলআউট হয়ে যায়।
এমন ছিল পুরো ম্যাচের গল্প
এই ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে 278 রান করেছিল। জবাবে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয় 232 রানে এবং বাংলাদেশ 46 রানের লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ 390 রান তোলে এবং পাকিস্তানকে 437 রানের লক্ষ্য দেয়। কিন্তু পাকিস্তান সেই লক্ষ্য থেকে 78 রান দূরে থেমে যায়।
লিটন আর মুশফিকুরের দাপট
বাংলাদেশের লিটন দাসকে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে 126 এবং দ্বিতীয় ইনিংসে 69 রান করার জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত করা হয়। অন্যদিকে পুরো সিরিজে 253 রান করা মুশফিকুর রহিম হন সিরিজসেরা। এই জয় পরিষ্কার করে দিল, বাংলাদেশ এখন টেস্ট ক্রিকেটে বড় দলগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানানোর শক্তি রাখে।





