Cricket

জিটির পেস আর্মির সামনে কাঁপছে দলগুলো, নেহরার মারাত্মক ফর্মুলায় আইপিএলে তাণ্ডব

আইপিএল 2026-এ গুজরাট টাইটান্সের পেস আক্রমণ প্রতিপক্ষকে আতঙ্কে ফেলছে। মোহাম্মদ সিরাজ, রাবাডা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার হার্ড লেংথ বোলিং ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করছে। আশিষ নেহরার বিশেষ কৌশল ও শুভমন গিলের শান্ত নেতৃত্বে গুজরাট এখন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দল।

আইপিএল 2026-এ বেশিরভাগ দলই বড় স্কোর আর চার-ছক্কার ক্রিকেট খেলছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই 220-এর বেশি রান উঠছে, কিন্তু গুজরাট টাইটান্স এই পরিবেশে একেবারে আলাদা পথ বেছে নিয়েছে। গুজরাট শুধু ব্যাটারদের রান আটকে দেয় না, বরং তাদের পুরোপুরি অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। সেই কারণেই দলটি একের পর এক ম্যাচ জিতে যাচ্ছে এবং অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

সিরাজ ও রাবাডার তাণ্ডব

নতুন বলে মোহাম্মদ সিরাজ এবং কাগিসো রাবাডা যখন রানআপ নেন, তখনই ব্যাটারদের উপর চাপ স্পষ্ট দেখা যায়। সিরাজ নিয়মিত 140 কিলোমিটারের গতিতে বল করছেন, আর রাবাডার গতি পৌঁছে যাচ্ছে 150 পর্যন্ত। দুজনেই ব্যাটারদের স্বাভাবিকভাবে খেলতে দিচ্ছেন না। এরপর প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা এবং জেসন হোল্ডারের মতো বোলাররা এসে চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন। গুজরাটের হাতে এমন বোলার রয়েছে যারা যেকোনো পরিস্থিতিতে উইকেট তুলতে পারে।

হার্ড লেংথেই তৈরি হচ্ছে ভয়

যেখানে অন্য দলগুলো ডেথ ওভারে ইয়র্কার খুঁজে বেড়াচ্ছে, সেখানে গুজরাটের পেসাররা লাগাতার হার্ড লেংথে আক্রমণ করছে। বল ব্যাটারের বুক পর্যন্ত উঠে আসছে, ফলে ভুল করার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। পুল খেলতে গেলে ক্যাচের ঝুঁকি, কাট মারতে গেলে এজ বের হওয়ার ভয়। ব্যাটারদের মনে হচ্ছে শটের চেয়ে সমস্যাই বেশি। এই কৌশলই গুজরাটকে অন্য দলগুলোর থেকে আলাদা করে তুলছে।

নেহরার বিশেষ ফর্মুলা

গুজরাট টাইটান্সের প্রধান কোচ আশিষ নেহরার ভাবনাই এখন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। তিনি গুজরাটকে শুধু একটা দল নয়, বরং পেস বোলারদের কারখানায় পরিণত করেছেন। মোহাম্মদ শামি এখানে এসে নিজের পুরনো ভয় ফিরিয়ে পেয়েছিলেন, আর মোহিত শর্মা পেয়েছিলেন দ্বিতীয় ক্যারিয়ার। এখন সেই একই সিস্টেমে সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাও ব্যাটারদের চাপে ফেলছেন। নেহরার কৌশল একটাই, ব্যাটারকে কখনও স্বস্তি অনুভব করতে না দেওয়া।

গিলের বদলে যাওয়া অধিনায়কত্ব

শুভমন গিল এখন শুধু ব্যাটার নন, বরং অত্যন্ত শান্ত এবং চালাক অধিনায়ক হিসেবেও উঠে আসছেন। রশিদ খানের মতো বড় স্পিনার দলে থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় গুজরাট পুরো ভরসা রাখছে পেসারদের উপর। দলের বিশ্বাস, সঠিক হার্ড লেংথে ধারাবাহিক বল করলে ব্যাটার নিজেই ভুল করবে। সেই কারণেই গুজরাট ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষকে চাপে ভেঙে ফেলছে।

অন্য দলগুলোর জন্য বড় হুমকি

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, গুজরাট শুধু নিজেদের মাঠে নয়, বাইরেও একই ধাঁচে ম্যাচ জিতছে। এর মানে পরিষ্কার, এটা শুধু পিচের সুবিধা নয়, পুরো ক্রিকেট দর্শনের ফল। যখন অন্য দলগুলো শুধুই বিনোদনের ক্রিকেট খেলছে, তখন গুজরাট ব্যাটারদের আবারও আসল পেস বোলিংয়ের ভয় অনুভব করাচ্ছে। এই মুহূর্তে আইপিএল 2026-এ একটা বিষয় একেবারে পরিষ্কার, গুজরাটের পেস আর্মি যদি ছন্দে থাকে তাহলে প্রতিপক্ষের শুধু স্কোর নয়, আত্মবিশ্বাসও ভেঙে পড়ে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button