
ব্যথা নিয়েও খেললেন ম্যাচ জেতানো ইনিংস, তবুও সবচেয়ে বড় সম্মান পেলেন না ক্রুণাল
Krunal Pandya ব্যথা ও ক্র্যাম্পস নিয়েও ম্যাচ জেতানো 73 রানের ইনিংস খেলেও প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ পাননি। Bhuvneshwar Kumar পুরস্কার জেতার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার নাম এখন প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর মুখে মুখে ঘুরছে। রায়পুরে হওয়া রোমাঞ্চকর ম্যাচে তিনি এমন একটি ইনিংস খেলেছেন যা বেঙ্গালুরুকে শেষ বলে জয় এনে দেয়। কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নেমে ক্রুণাল 46 বলে 73 রান করেন। তার ইনিংসে ছিল 5টি বিশাল ছক্কা এবং 4টি চার। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল যখন দলের বড় ব্যাটাররা একের পর এক আউট হয়ে যাচ্ছিলেন তখন একাই লড়াই চালিয়ে যান ক্রুণাল এবং ম্যাচকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। সেই কারণেই এখন তার এই ইনিংস পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে ধরা হচ্ছে।
পুরস্কার নিয়ে উঠল প্রশ্ন
এত দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পরও ম্যাচের সবচেয়ে বড় সম্মান দেওয়া হয় ভুবনেশ্বর কুমারকে। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন ছিল শেষ পর্যন্ত কেন ক্রুণাল পাণ্ডিয়া এই সম্মান পেলেন না। ভুবনেশ্বর ম্যাচে 4 উইকেট নিয়েছিলেন এবং শেষ ওভারে গুরুত্বপূর্ণ ছক্কাও মেরেছিলেন। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে রায়পুরের পিচ বোলারদের জন্য বেশি সহায়ক ছিল। এমন পরিস্থিতিতে চাপের মধ্যে 73 রান করা আরও কঠিন এবং মূল্যবান বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটারও মনে করেছেন ক্রুণালই এই পুরস্কারের সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিলেন।
কঠিন পিচেও দেখালেন সাহস
রায়পুরের পিচে ব্যাটারদের জন্য রান করা মোটেও সহজ ছিল না। দুই দলের একাধিক বড় ব্যাটার সংগ্রাম করতে দেখা যায়। বিরাট কোহলি, রজত পাটিদার, টিম ডেভিড এবং পাডিক্কলের মতো ক্রিকেটাররাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। কিন্তু ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ধৈর্য এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার দুর্দান্ত মিশ্রণ দেখিয়েছেন। তিনি পেসার এবং স্পিনার দুই ধরনের বোলারের বিরুদ্ধেই বড় শট খেলেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে এমন চ্যালেঞ্জিং পিচে এই ধরনের ব্যাটিংই তার ইনিংসকে বিশেষ করে তুলেছে।
চোটের পরও ছাড়েননি মাঠ
ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার এই ইনিংসকে আরও বিশেষ করে তুলেছে তার লড়াইয়ের মানসিকতা। ব্যাটিংয়ের সময় দীপক চাহারের একটি জোরালো বল তার পেটে লাগে। এরপর তার পায়ের পেশিতেও টান ধরে যায়। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল তার। তবুও তিনি মাঠ ছাড়তে অস্বীকার করেন। প্রচণ্ড ব্যথার মধ্যেও তিনি লড়াই চালিয়ে যান এবং দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান। তার এই জেদি ব্যাটিং ফ্যানদের মন জিতে নিয়েছে।
18তম ওভারেই বদলে যায় ম্যাচ
ম্যাচের সবচেয়ে বড় মোড় আসে 18তম ওভারে। এই ওভারেই ক্রুণাল পাণ্ডিয়া আল্লাহ গজনফরের বলে টানা বড় শট মারেন। তৃতীয় এবং পঞ্চম বলে মারা তার দুটি ছক্কাই ম্যাচের গতি পুরো বদলে দেয়। যদিও শেষ বলে তিনি আউট হয়ে যান কিন্তু ততক্ষণে বেঙ্গালুরু পুরোপুরি ম্যাচে ফিরে এসেছে। এরপর শেষ ওভারে দল রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয়। ফ্যানদের মতে সেই সময় ক্রুণাল যদি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং না করতেন তাহলে বেঙ্গালুরু হয়তো ম্যাচ হেরে যেত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু তর্ক
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও তর্ক শুরু হয়। অনেকেই বলেন শুধু উইকেটের সংখ্যা দেখে পুরস্কার দেওয়া উচিত নয় বরং ম্যাচের পরিস্থিতিও বিচার করা জরুরি। ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার ব্যাটিং। পুরস্কার যেই পাক না কেন রায়পুরে বেঙ্গালুরুর জয়ের আসল নায়ক হিসেবে এখন সবাই ক্রুণাল পাণ্ডিয়াকেই দেখছে।





